অনুপ্রবেশকারী: প্রাথমিক লিস্টে নাম দু'হাজারের! - 24 Ghanta Bangla News
Home

অনুপ্রবেশকারী: প্রাথমিক লিস্টে নাম দু'হাজারের!

Spread the love

সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ‘ডিটেক্ট–ডিলিট–ডিপোর্ট’ করার কথা আগেই ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সেই মতো জেলায় জেলায় বাংলাংদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ ও ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্য প্রশাসন সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যে সব মিলিয়ে দু’হাজার জন বাংলাদেশিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বাইরেও ধারাবাহিক ভাবে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণের কাজ চলবে।

তাঁদের আপাতত আটক করে এনে ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখা হবে। সেখান থেকে বিএসএফের মাধ্যমে তাঁদের ডিপোর্ট বা পুশ ব্যাক করা হবে। সূত্রের খবর, এ দিন পর্যন্ত নবান্নের কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে মুর্শিদাবাদের ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ ৬৩ জন ও মালদায় ৯ জনকে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে যে শ’দেড়েকের মতো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিজেরাই দেশ ছাড়তে চেয়ে ভিড় করেছেন, তাঁদের বাংলাদেশে ঢোকার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনের কাছে খবর এসেছে। এই পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হলেও তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে কী ভাবে, তা খতিয়ে দেখছে বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় সরকার।

এত দ্রুত প্রায় দু’হাজার অনুপ্রবেশকারীকে কী ভাবে চিহ্নিত করা হলো? নবান্ন সূত্রের দাবি, গত এক বছর ধরে ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও যে বাংলাদেশি নাগরিকরা অবৈধ ভাবে এ রাজ্যে রয়েছেন, তাঁদের তালিকা তুলে দিয়েছে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কাছে। সেখান থেকেই এই বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, এই মুহূর্তে তাঁদেরই আটক করে ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ নিয়ে আসা হচ্ছে। গোয়েন্দা দপ্তরকেও এ ব্যাপারে সক্রিয় করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলে বন্দি বাংলাদেশি নাগরিকদের সাজার মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের আইন মেনে ডিপোর্ট করা হবে।

রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিক বুধবার জানান, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) কাজ শুরু হতেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের একাংশ নিজেরাই বাংলাদেশে ফিরে যান। নিউ টাউন সমেত বহু এলাকায় ঝুপড়ি ফাঁকা হয়ে যায়। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ ‘সার’ শুনানিতে অংশ নেননি। এঁদের একটা বড় অংশও বেআইনি অনুপ্রবেশকারী বলে মনে করছে প্রশাসন। নবান্নের এক কর্তার কথায়, ‘বহু সময়ে দেখা গিয়েছে, গরিব বা নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষকে টাকার বিনিময়ে এজেন্টদের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বেআইনি ভাবে এনে তাঁদের আধার–প্যান–ভোটার কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদা, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এমন অনেক ঘটনা সামনে এসেছে।’

নবান্ন সূত্রের খবর, ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে সব জেলার পুলিশকে। যাতে আটক বাংলাদেশিরা পালিয়ে না যান বা অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটান, সে দিকে বিশেষ নজর দিতেও বলা হয়েছে। ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ একজন অনুপ্রবেশকারীকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন আটক রেখে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার কথা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক কর্তারা চান, অন্তত তিন দিন বা যত কম সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সেরে এই অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ডিপোর্ট বা পুশ ব্যাক করতে। বুধবার আসানসোলে একটি অনুষ্ঠানে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘পূর্বতন সরকারের আমলে এই বাংলাদেশিরা অবৈধ পথে এ দেশে ঢুকেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এঁদের ভোটের রাজনীতির কাজে ব্যবহার করেছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘এঁঁদের জন্য এই রাজ্যের কল্যাণমূলক তহবিলের টাকা খরচ করা বা এ রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ করা উচিত নয়। এঁদের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি শিবিরে রেখে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *