‘স্বেচ্ছায় না পালালে ঘাড় ধাক্কা!’ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে এবার বিস্ফোরক দিলীপ
কলকাতা: বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের এ রাজ্য থেকে তাড়াতে শুরু হয়ে গিয়েছে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ প্রক্রিয়া। আর এই মেগা পুশব্যাক অ্যাকশন নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন …
কলকাতা: বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের এ রাজ্য থেকে তাড়াতে শুরু হয়ে গিয়েছে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ প্রক্রিয়া। আর এই মেগা পুশব্যাক অ্যাকশন নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, “বাংলাদেশিরা কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া সব ধরনের সুবিধা নিচ্ছে। গরিবদের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধাও তারা পাচ্ছে। এতকাল তাদের আধার কার্ড, ভোটার আইডি দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।” নতুন সরকার এসে এই ‘দুর্নীতি’ বন্ধ করতে উদ্যত হয়েছে দাবি করে দিলীপবাবু স্পষ্ট জানান, “ভালো হয় যদি তারা স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যায়, না হলে সরকার বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।” (Bangladeshi infiltrators pushback in West Bengal)
নবান্ন সূত্রে খবর, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আটকে রাখার জন্য রাজ্য জুড়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই মালদা ও মুর্শিদাবাদে এই সেন্টারগুলি তৈরি হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই কড়া বার্তা দিয়েছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেই সোজা এই সেন্টারে নিয়ে গিয়ে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হবে। আর সরকারের এই কড়া অবস্থানের জেরেই উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্টে দেখা গিয়েছে নয়া ছবি। বিএসএফ ও পুলিশের ভয়ে বাংলাদেশিরা নিজেরাই এখন তল্পিতল্পা গুটিয়ে দলে দলে সীমান্তে ভিড় জমাচ্ছেন বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য।
অমিত শাহের সেই নির্দেশিকা এবার কার্যকর বাংলায়
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে প্রত্যর্পণের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছিল। কিন্তু তৎকালীন তৃণমূল সরকার ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে এ রাজ্যে তা কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ। এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সেই নির্দেশকে হাতিয়ার করেই ময়দানে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির অভিযোগ ছিল, অনুপ্রবেশকারীদের রেশন ও ভোটার কার্ড পাইয়ে দিয়ে বাংলার ‘ডেমোগ্রাফি’ বা জনবিন্যাস বদলে দেওয়া হচ্ছিল, যার ফলে বঞ্চিত হচ্ছিলেন এ রাজ্যের সাধারণ মানুষ। এবার সেই জট কাটানোই নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।