সিদ্দাকে সরিয়ে কর্নাটকে CM কুর্সিতে শিবকুমার?
এই সময়, নয়াদিল্লি: কেরালার পরে এ বার কর্নাটক! সিদ্দারামাইয়া বনাম শিবকুমার— কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে যুযুধান দু’পক্ষের দড়ি টানাটানি চরমে পৌঁছেছে বলে খবর। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক করেও কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে চলতে থাকা স্নায়ুযুদ্ধে দাঁড়ি টানতে পারলো না কংগ্রেস হাইকম্যান্ড৷
দলীয় সূত্রের দাবি, সিদ্দারাকে সরিয়ে ডিকে শিবকুমারকে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসানোর জন্য এ বার কংগ্রেস হাইকম্যান্ড বদ্ধপরিকর৷ এই মর্মেই ‘বিকল্প সম্মানজনক পুনর্বাসন’ হিসেবে সিদ্দার জন্য রাজ্যসভার সাংসদ পদও অফার করা হয়েছে৷ তার পরেও মেটেনি দ্বন্দ্ব৷ রাত পৌনে ন’টায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দর থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে উড়ে গিয়েছেন সিদ্দা৷ সূত্রের দাবি, ফ্লাইটে ওঠার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সিদ্দা বলে গিয়েছেন ‘ভেবে দেখছি, কী করা যায়!’ একটি সূত্রের যদিও দাবি, দু–তিন দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে চলেছেন সিদ্দা। কিন্তু বিষয়টা কি এতটা সহজ হবে? মুখ খুলতে নারাজ সবপক্ষই। পরিস্থিতি সামাল দিতে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা কেসি বেণুগোপালের দাবি, ‘কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বদলের বিষয় নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি৷ রাজ্যসভার আসন্ন নির্বাচনের পাশাপাশি বিধান পরিষদের ভোট নিয়েই এ দিন যাবতীয় আলোচনা হয়েছে৷’
তবে বেণুগোপাল যা–ই বলুন, সিদ্দা–শিবকুমার দ্বন্দ্ব নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সূত্রের খবর, এ বার শিবকুমারের দিকেই পাল্লা ভারী। কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতাদের অনেকেই মনে করছেন, ২০২৮–এর নির্ধারিত কর্নাটক বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে এখনই শিবকুমারকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো উচিত৷ সূত্রের খবর, এই দাবিকে জোরালো ভাবে সমর্থন জানিয়েছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী৷ ২০২৮ সালে সিদ্দারামাইয়া ৮০ বছরে পা দেবেন, তখন উনি এতটা কর্মক্ষম থাকতে পারবেন না৷ এই সুযোগে বিজেপি কর্নাটকে থাবা বসাতে পারে— প্রিয়াঙ্কার এই যুক্তি ফেলতে পারেননি রাহুল, বেণুগোপাল এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও৷
সূত্রের খবর, এর পরেই কংগ্রেস সভাপতির বাসভবনে আয়োজিত ম্যারাথন বৈঠকে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর জন্য সিদ্দাকে প্রস্তাব দেন খাড়গে নিজেই৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ নিতে নাকি রাজি নন সিদ্দা, তাই তিনি ভেবে দেখার জন্য সময় চেয়েছেন৷ এখন দেখার, সিদ্দাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়ার জন্য দল আরও সময় দেয়, নাকি চলতি মাসেই সিদ্দার বিকল্প হিসেবে ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় নেতা, রাজ্যের উপ–মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারের হাতেই তুলে দেওয়া হয় কর্নাটকের ভার?