বিগত পাঁচ দশক এবং সমকালীন বঙ্গীয় সমাজ - 24 Ghanta Bangla News
Home

বিগত পাঁচ দশক এবং সমকালীন বঙ্গীয় সমাজ

Spread the love

ঔপনিবেশিক নথি, সাহিত্য ও কবিতায় বাঙালির একটা সুপরিচিত ভাবমূর্তি আছে— যেমন বাঙালি দুর্বল ও ভিতু, ভোজনবিলাসী ও পেটরোগা, অলস ও কর্মবিমুখ, কল্পনাবিলাসী এবং তর্কে পটু। বাংলার জলবায়ু অধিবাসীদের স্বাধীন মানসিকতা গঠনে সহায়তা করলেও তা শারীরিক অক্ষমতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিলেন, ‘ভাত অতি অসার খাদ্য, তাহাতেই বাঙালির শরীর গঠে না। এজন্য ‘ভেতো বাঙালি’ বলিয়া বাঙালির কলঙ্ক হইয়াছে’ (‘বাঙালির বাহুবল’, বঙ্কিম রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১১)। রবীন্দ্রনাথও এ বিষয়ে সহমত, ‘আমাদের মনে উদ্যম জ্বলিয়া উঠিয়াছে, কেবল দুর্বল শরীর তাহার বাধা দিতেছে (‘বাঙালির আশা ও নৈরাশ্য’, রবীন্দ্র রচনাবলী, দ্বাদশ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৫)। বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকে, মহাযুদ্ধের আবহে বাঙালি পল্টন গঠন হলে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর কবিতায় লেখেন, ‘মন আমাদের যুদ্ধে গেছে কেহই না ডাকতে/ শরীর শুধুই পিছিয়ে মোদের, এগিয়ে গেছে মন—/ মানস-লোকে মার্চ করে যায় বাঙালী পলটন’ (‘বাঙ্গালী পল্টনের গান’, প্রবাসী, ভাদ্র ১৩২৪)। ঔপনিবেশিক কথনে ইংরেজ পুরুষকে ‘পুরুষোচিত ও শক্তিশালী’ হিসেবে দেখানো হতো, আর বাঙালি শিক্ষিত পুরুষকে ‘দুর্বল ও নারীবৎ’ বলে চিহ্নিত করা হতো (কলোনিয়াল ম্যাসক্যুলিনিটি: দ্য ম্যানলি ইংলিশম্যান অ্যান্ড দ্য এফিমিনেট বেঙ্গলি ইন দ্য লেট নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি, মৃণালিনী সিনহা, ১৯৯৫)।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *