হারের দায় নিজে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা মানসের
এই সময়, খড়্গপুর: হারের জন্য তিনি নিজেই দায়ী — নির্বাচনে পরাজয়ের পরে উপলব্ধি প্রবীণ তৃণমূল নেতা মানস ভুঁইয়ার। হেঁয়ালি করে জানিয়েছেন, পরাজয়ের পিছনে প্রধান কারণ কী, তা এখনও অজানা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর বাবা শিশির অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন মানস। বলেন, ‘শুভেন্দু জেদি, কাজ করার ছেলে। মেদিনীপুরের একটি সন্তান হিসেবে আমি দেখি তাঁকে। গর্বিত হই।’
পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং মানসের সমার্থক। সেখান থেকে তিনি হারবেন, তাঁর শত্রুও হয়তো ভাবেননি। তবে নিজেই জানিয়েছেন, ১৯৮২ থেকে ২০২৬ — ৪৪ বছরে দু’বার হারলাম। একবার গান পয়েন্টে হারানো হয়েছিল। বলছেন, ‘এ বার হয়তো সংগঠনের ফাঁক-ফোকর, ত্রুটি–বিচ্যুতি ধরতে পারিনি। সবংয়ের ১৩টা অঞ্চলে না হলে পিছিয়ে থাকি? মানুষের রায়কে মেনে নিতে হবে। হারের জন্য ক্যাপ্টেন হিসেবে আমিই দায়ী।’ তবু প্রশ্ন তুলছেন — কংগ্রেসের ১২ হাজার ভোট ছিল, ২২০০ তে থামল কেন? সিপিএম ৬৭ হাজারের জায়গায় ছ’হাজার ভোট পেল কেন?
কেন কংগ্রেস ছেড়ে তাঁকে তৃণমূলে ‘যেতে হয়েছিল’, এতদিন পরে তারও ব্যাখ্যা করেন। বলেন, ‘২০১১–য় প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে তৃণমূলের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করে সিপিএমকে সরিয়েছিলাম।’ পরে তৃণমূল ছেড়ে জোট বাঁধেন সিপিএমের সঙ্গে। বিরোধী হিসেবে মানস তখন পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্ব ওই পদ সিপিএমের সুজন চক্রবর্তীকে দেওয়ার জন্য তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন। এর বিরোধীতা করায় কংগ্রেস তাঁকে সাসপেন্ড করে। তারপরেই ২০১৬–য় তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। মানস বলেন, ‘কংগ্রেস সেই সাসপেনশন তোলেনি। সবংয়ের এত মানুষ, এত কর্মী আমার উপরে নির্ভর করে। তাই তাঁদের সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
তাঁর অভিযোগ, এ বার নির্বাচনের পরে সবংয়ের নানা পুরোনো ঘটনার জের টেনে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অন্তত ১৪ জনকে মারধর করা হয়েছে। ভয়ঙ্কর ভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। কেউ ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারছে না। কারা এ সব করছে? খানিকটা সতর্ক হয়ে মানস বলেন, ‘বিজেপির কোনও নেতা গন্ডগোল করেনি।’ তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সম্পর্কে বলেন, ‘ছাত্র-যুব-মাদারের লড়াই করা সৈনিক। অনুরোধ করছি, আপনি বাংলাকেও দেখুন, মেদিনীপুরকেও দেখুন। মানুষের চোখের জল মোছান। শান্তি আনুন। উন্নয়ন করুন।’ স্মৃতিচারণের ঢঙে বলেন, ‘শিশিরদা আমাদের শ্রদ্ধেয় দাপুটে নেতা ছিলেন। লড়াই, সংগ্রাম করতেন।’
আর নিজের দল সম্পর্কে গলায় ঝরে পড়ছে কিছুটা সমালোচনার সুরও। জানিয়েছেন, বৈঠক মানেই তো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল হতো। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ক্যাবিনেটে বা প্রশাসনিক সভায় দেখা হতো। মানসের কথায়, ‘কোনও এক জন নেতার ঘরে ২৪ ঘণ্টা বসে থাকব, ২৪ ঘণ্টা তার কথা মেনে চলব। তিনিই হবেন সংযোগকারী। এটা তো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’ ইঙ্গিতটা স্পষ্ট। তবে নাম বলতে চাননি মানস। অন্য দলে চলে যাবেন? মানস বলেন, ‘লুকিয়ে কাপুরুষের মতো কোনও সিদ্ধান্ত আমি নিই না। যদি তেমন হয় সবাইকে জানিয়েই যাব।’