এক সঙ্গে ইস্তফা ৮ কাউন্সিলারের, ডায়মন্ড হারবার পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পদত্যাগ করেছেন বিভিন্ন পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান কাউন্সিলাররা। আগেই ইস্তফা দিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার উত্তর ব্যারাকপুর , হালিশহর, গারুলিয়া, পূর্ব মেদিনীপুরে কাঁথি পুরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলার। এ বার ইস্তফা দিলেন ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ৮ জন কাউন্সিলার। এই পুরসভার আরও দুই কাউন্সিলারও পদত্যাগ করতে পারেন বলে সূত্রের খবর। ফলে ডায়মন্ড হারবার পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেও বিপর্যয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ফলতার পুনর্নির্বাচনে ১ লক্ষ ৯ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছে বিজেপি। তারপরেই ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’কে নিশানা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর ফলতা আসনের ফল ঘোষণার পরের দিনেই বড়সড় ভাঙন ডায়মন্ড হারবার পুরসভায়। এই পুরসভার সব ক’টি আসনই ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। সোমবার পদত্যাগ করেছেন করেছেন ৮ জন কাউন্সিলার। তাঁরা দত্যাগপত্র জমা দিতে যান ডায়মন্ড হারবার মহকুমাশাসকের দপ্তরে। তবে পৌর আইন অনুযায়ী মহকুমাশাসক সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করায় পুরসভার চেয়ারম্যান প্রণব দাসের কাছে তা জমা দেন তাঁরা।
ওই পদত্যাগকারী কাউন্সিলারদের মধ্যে রয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের দিব্যেন্দু হালদার, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মঞ্জু মণ্ডল, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমাল হালদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃদুল হালদার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বপন হালদার, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অলোক হালদার, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের অমিত সাহা এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেবকি হালদার।

পদত্যাগকারী কাউন্সিলারদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর নামে এলাকায় অরাজকতা চলেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হলেই পুলিশ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও নির্যাতন করা হতো বলেও দাবি তাঁদের। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজশ্রী দাসের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ করেছেন তাঁরা। অন্য কোনও দলের চাপে ইস্তফা দেননি বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
ডায়মন্ড হারবার পুরসভার চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, পুরসভা এলাকার উন্নয়নের জন্য সব রকমের চেষ্টা করেছেন তাঁরা। কাউন্সিলারদের অভিযোগ নিয়ে আগে থেকে কিছু জানতে না বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তিনি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসেই আছেন। এই পরিস্থিতিতে পুরবোর্ড ভেঙে যাতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনিও।