'২০১০ নুরুল ইসলামের দেগঙ্গার দাঙ্গায় সমর্থন ছিল কাকলির!' বিস্ফোরক তথাগত - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘২০১০ নুরুল ইসলামের দেগঙ্গার দাঙ্গায় সমর্থন ছিল কাকলির!’ বিস্ফোরক তথাগত

Spread the love




athagata-roy-kakoli-ghosh-deganga-riot-controversy

কলকাতা: গতকাল ২৪ মে তৃণমূলের বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Tathagata Roy)। এর আগেই সম্প্রতি তৃণমূল তাকে চিফ হুইপ পদ থেকে বহিস্কার করে। বহিষ্কারের পরেই তিনি তৃণমূল এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে এক্স হ্যান্ডেলে প্রতিবাদী পোস্ট করেন এবং বলেন দীর্ঘদিনের তৃণমূলের সঙ্গে পথ চলার পুরস্কার পেলেন তিনি। এই আবহেই এবার কলম ধরলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। তিনি তার স্মৃতি হাতড়ে ফিরে গিয়েছেন ২০১০ সালের একটি ভয়াবহ ঘটনায়। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের অন্তর্গত দেগঙ্গাতে একটি দাঙ্গায় উস্কানি দিয়েছিলেন তৎকালীন সাংসদ হাজি নুরুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন এই দাঙ্গায় সমর্থন ছিল এই তৃণমূল নেত্রীর।

– Advertisement –

২০১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর উত্তর ২৪-পরগনার দেগঙ্গা ব্লকের কার্তিকপুর বা চাট্টালপল্লী গ্রামে একটি জমিকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে এই দাঙ্গা শুরু হয়। ওই জমিতে একটি মুসলিম কবরস্থান এবং হিন্দুদের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজার মণ্ডপ ও মন্দির অবস্থিত ছিল। কবরস্থানের চারপাশে প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।এই সংঘর্ষ দ্রুত বড় আকার ধারণ করে। বহু দোকানপাট, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং কয়েকটি মন্দির অপবিত্র করার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয় এবং র‍্যাফ (RAF) ও ভারতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

আরও দেখুনঃ বাড়ি না ফিরেও নির্বাচনে লড়াই, ৪০ হাজার ভোটে চমক ফলতার CPIM প্রার্থী শম্ভুর

ঘটনাচক্রে এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েছিলেন তথাগত রায় এবং সেই সময় লালকৃষ্ণ আদবানির নির্দেশে কেন্দ্রীয় বিজেপির তরফ থেকে একটি জনসভার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রচুর হিন্দুর সমাগম হয়েছিল । সেই সভার প্রবেশের রাস্তায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের নেতারা বিক্ষোভ দেখিয়েছিল এবং জুতো, ঝাঁটা ইত্যাদি ঝুলিয়ে রেখেছিল বলে অভিযোগ করেছেন তথাগত।

তথাগত রায় তার এক্সহান্ডেলের পোস্টে স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন সেদিন দেগঙ্গার এই দাঙ্গাকে সমর্থন করেছিলেন কাকলি। আর বর্তমানে তাকে যখন চিফ হুইপ পদ থেকে বহিস্কার করা হল, তার পর থেকেই তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে শুরু করেন তিনি। তথাগত তার লেখায় স্পষ্ট বলেছেন সেদিন কেন একজন হিন্দু মহিলা হয়ে কাকলি এই ঘটনার প্রতিবাদ করেননি। সেটা কি এই কারণেই যে তখন দলে তার গুরুত্ব ছিল এবং ঠিক সেই সময় থেকেই তৃণমূলের ক্ষমতার আসার পটভূমি তৈরী হচ্ছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় এলে তাদের মত নেতাদের লাভ হবে বলে তারা সেদিন দাঙ্গাকে সমর্থন করেছিলেন বলেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতা।

অবশ্য এখানেই শেষ নয় গতকাল পদত্যাগ করার পর থেকেই তৃণমূলের এই পুরোনো নেত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জনে শোনা যাচ্ছে তিনি শিবির বদল করার চেষ্টা করলেও করতে পারেন। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পরিষ্কার ভাবেই বলেছেন যে এই মুহূর্তে অন্য দল থেকে বিজেপি আসার রাস্তা বন্ধ এবং অনেক তৃণমূলের নেতা বিজেপিতে যাওয়ার জন্য হাপিত্যেশ করে বসে আছেন এমনটাও জানিয়েছেন তিনি। তবে কাকলি এরপর কি করেন তা ভবিষ্যৎই বলবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *