‘মোস্ট ট্যালেন্টেড’ টিম, তবু পে–কাট এমবাপেদের?
এই সময়: বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতিভাবান টিম কোন দেশের জিজ্ঞাসা করলে, বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই নাম করছেন ফ্রান্সের। এমনকি আর্জেন্তিনার একটি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সম্প্রতি লিওনেল মেসি ফেভারিটের তালিকায় এক নম্বরে রেখেছেন কিলিয়ান এমবাপে–উসমান দেম্বেলেদের টিমকেই। কিন্তু হঠাৎই বিশ্বকাপের আগে এমবাপেদের বোনাসে কাটছাঁট করতে চায় ফ্রান্সের ফুটবল ফেডারেশন।
মাস দুয়েক আগে ফ্রান্সের ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্ট ফিলিপ দিয়ালো দেখা করেন ফুটবলারদের সঙ্গে। বলেন, ফিফার তরফ থেকে বিশ্বকাপ খেলার জন্য যে পুরস্কার মূল্য পাওয়া যাবে, তা মোটেই বেশি নয়। তা ছাড়া ডলার থেকে ইউরোয় বদলে ফেললে সেই মূল্য কমে যাবে আরও কিছুটা। সে জন্য ফুটবল সংস্থার তরফ থেকে বিশ্বকাপের বোনাস কমিয়ে দেওয়া হবে। সম্প্রতি এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ফরাসি ফুটবলে।
বিশ্বকাপের বোনাস অর্থে বলা হচ্ছে, বিশ্বকাপে ম্যাচ পিছু প্রতি ফুটবলারকে সংস্থার তরফ থেকে যা দেওয়া হবে। ঘটনা হলো, ফুটবলারদের অনেকেই, বিশেষ করে সিনিয়ররা ফেডারেশনের এই ‘ইচ্ছা’য় খুশি হতে পারেননি। তাঁদের পাল্টা চুক্তি, আমেরিকান সংস্থা নাইকির সঙ্গে কয়েক মাস আগেই স্পনসরশিপের জন্য রেকর্ড চুক্তি করেছে ফ্রান্সের ফেডারেশন। এই চুক্তি অনুযায়ী, ফ্রান্সের ফেডারেশন প্রতি বছরে ১০ কোটি ইউরো করে পায়। তার পরেও কেন বোনাস কমাতে চায় ফেডারেশন? ম্যাচ পিছু ফ্রান্সের প্রতিটি ফুটবলার পান প্রায় ২১ হাজার ইউরো। এর চেয়েও কম বোনাসে তীব্র অনীহা এমবাপেদের।
অনেক ফুটবলার প্রশ্ন তুলেছেন, এই যদি ইচ্ছে তা হলে বিশ্বকাপে যোগ্যতা পাওয়া নিশ্চিত করার পরে দ্বিগুণ বোনাস দিয়েছিল কেন ফেডারেশন। নভেম্বরে ইউক্রেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপের যোগ্যতা পাওয়ার পরে সেই ঘটনাই ঘটেছিল। সে বারে ফুটবলারদের তরফে দ্বিগুণ বোনাসের দাবি তুলেছিলেন এমবাপে। যা মেনেছিল ফেডারেশন। এ বার তা হলে কমাতে চাইছে কেন ফরাসি ফেডারেশন?
ফরাসি ফুটবলের সঙ্গে জড়িত সূত্রের দাবি, ফেডারেশন বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যয় সঙ্কোচের রাস্তায় হাঁটতে চাইছে। সম্প্রতি একটি টুর্নামেন্টে অনূর্ধ্ব ২০ ছেলেদের টিমকে পাঠায়নি ফেডারেশন, গতবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও। এ বছরের শুরু থেকে বাজেট কমানোর আরও কিছু পদক্ষেপ করেছে তারা। কিন্তু এই সব সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছিল ছেলেদের সিনিয়র টিমকে। ২৮ মে ফ্রান্সের জাতীয় টিম যোগ দেবে ক্লেয়ারফঁতের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে। মনে করা হচ্ছে, সেখানে ফুটবলারদের সঙ্গে আর এক দফা আলোচনায় বসবেন প্রেসিডেন্ট।