মুখ্যমন্ত্রীকে করা আবেদনপত্র জমা নিচ্ছেন বাবা শিশির, শান্তিকুঞ্জের সামনে জমছে ভিড়
সোমনাথ মাইতি, কাঁথি
কারও হাতে ফুলের তোড়া, কারও হাতে শুধু পদ্ম। অনেকের হাতে আবার আবেদনপত্রও। ওঁরা খবর পেয়েছেন শনিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কাঁথির বাড়ি ‘শান্তিকুঞ্জে’ এসেছেন।
খবর পাওয়া মাত্রই রবিবার সকালে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের বসন্তপুরের ত্রিদীপকুমার নন্দ এসেছিলেন কাজ ফিরে পাওয়ার আবেদনপত্র নিয়ে। বিশেষ ভাবে সক্ষম ত্রিদীপ। জলজীবন মিশন প্রকল্পে পাম্প অপারেটরের কাজ করতেন। কোনও এক কারণে তাঁর কাজ চলে যায়। এসেছিলেন কাঁথির শেরপুরের বাসন্তী ঘোড়াই। দীর্ঘদিন অসুস্থ। চিকিৎসা করানোর টাকা নেই। তাঁর আর্জি, কোনও ভাবে যদি মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তালিকাটা দীর্ঘ।
নিরাশ হয়ে ফেরেননি কেউই। তাঁদের আবেদনপত্রগুলি মুখ্যমন্ত্রীর বাবা শিশির অধিকারী জমা নিয়েছেন। পরে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে প্রচুর মানুষ সমস্যা ও দাবির কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানানোর জন্য এসেছিলেন। প্রচণ্ড গরম ও রোদের মধ্যে মানুষ আমার ছেলের জন্য অপেক্ষা করেছেন। তাঁদের আবেদনপত্রগুলি জমা নেওয়া হয়েছে। সিকিউরিটি গার্ড ছাড়াও আমার কাছেও অনেকে খাম জমা দিয়ে গিয়েছেন। খামগুলি কিছুক্ষণের মধ্যেই শুভেন্দুর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সেই খামগুলি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছেন।’
‘শান্তিকুঞ্জ’–র সামনে শনি–রবিবার সকালে ভিড়টা আরও জমাট বাঁধে। বিভিন্ন আর্জির পাশাপাশি ‘ঘরের ছেলে’–কে একবার চোখের দেখা দেখতে আসেন অনেকে। গোটা পাড়া সবসময়ই জমজমাট। ‘শান্তিকুঞ্জ’–র পাশের বাড়ি ‘মায়াকুঠি’। বাড়ির মালিক বিমান ধর বলেন, ‘পাশের বাড়ির ছেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এ তো গর্বের। তবে পাড়ার লোক মুখ্যমন্ত্রী হলেও নিরাপত্তার কোনও কড়াকড়ি নেই। নেই বাড়াবাড়িও। সব কিছু আগের মতো স্বাভাবিক।’
একই মত ত্রিদীপ ও বাসন্তীদেরও। না হলে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে এমন ভাবে ভিড় করে দাঁড়ানো যেত না। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির গলির মুখের এক দোকানদারের কথায়, ‘দাদার (শুভেন্দু অধিকারী) কোনও পরিবর্তন হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে দাদা বাড়ি এলেও কারও কোনও অসুবিধা হয় না। আমরা, পথচারীরা তো অধিকারী বাড়ির সামনে দিয়েই যাতায়াত করি। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি বলে কেউ কোনও বাধা দেন না।’ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে শুভেন্দুও জানিয়েছিলেন, তাঁর নিরাপত্তার জন্য কোনও ভাবে যেন সাধারণ মানুষকে ভুগতে না হয়।
অন্য দিনের মতো রবিবারও ‘শান্তিকুঞ্জ’–র গলিতে ঢোকার মুখে ছিল না গার্ডরেল বা ব্যারিকেড। রাস্তার পাশে সিআরপিএফ ও পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে পর্যন্ত গলির মধ্যে মোটরবাইক, গাড়ির যাতায়াত ছিল অবাধ। প্রতিবেশীদের ঘর থেকে বেরোতে বা ঢুকতে কোনও সিকিউরিটি পাস–ও দেখাতে হচ্ছে না। শুধু বাড়িতে কোনও গেস্ট এলে তার তথ্য পুলিশকে আগাম জানাতে হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বরাবর নিজেকে পান্তাভাত খাওয়া গ্রামের ছেলে হিসেবে দাবি করে এসেছেন। ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে মা গায়ত্রী দেবীও জানিয়েছিলেন, মাছ–মাংসের থেকে পান্তাভাতই সবচেয়ে বেশি পছন্দ ছেলের। আর হাজার কাজ থাকলেও সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টার জন্য তাঁর কাঁথির বাড়িতে আসা চাই। শনিবার রাতেও কাঁথির বাড়িতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার বিকেল চারটে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোন শুভেন্দু। জেলার অস্থায়ী ভোকেশনাল শিক্ষকরাও ভোর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন। ভিড়ের মধ্যে থেকেই তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে ছোঁয়ারও চেষ্টা করলেন।