অফলাইনে বাড়ির নকশার অনুমোদন বন্ধ বিজেপির, আতঙ্কিত বিল্ডিং মালিকরা - 24 Ghanta Bangla News
Home

অফলাইনে বাড়ির নকশার অনুমোদন বন্ধ বিজেপির, আতঙ্কিত বিল্ডিং মালিকরা

Spread the love

দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ

সরকারি নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অফলাইনে বিল্ডিং প্ল্যান পাস করার অভিযোগ উঠেছিল আরামবাগ পুরসভা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সেই অফলাইন বিল্ডিং পাস পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়া হলো বিজেপির তরফ থেকে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত বিল্ডিং মালিকরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘পুরসভা কার্যালয়ে আমাদের বিল্ডিংয়ের প্ল্যান পাস করতে দিয়েছিলাম। ওরা অফলাইনে বিল্ডিং পাস করে দিয়েছিল। আমরা তখন সরকারি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কিছু বুঝিনি। প্ল্যান পাসের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ফিজ় দিয়েছিলাম। কারও কাছ থেকে তিন লক্ষ আবার কারও থেকে চার লক্ষ টাকা বা তারও বেশি। অথচ এখন শুনছি, অফলাইনের বিল্ডিং প্ল্যান পাস অবৈধ। এতে বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মূখীন হবেন বহু মানুষ।’

এই প্রসঙ্গে আরামবাগ পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভাণ্ডারী বলেন, ‘এতে দু’নম্বরী কিছুই নেই। এটা পুরসভার ত্রাণ তহবিলে জমা পড়েছে।সেই বিলও দেওয়া হয়েছে। বিজেপি এখন ত্রাণ তহবিল নিয়ে পড়েছে। সব কিছুই ঠিকঠাক আছে।’

উল্লেখ্য, আরামবাগ শহরটি হুগলি, হাওড়া, দুই মেদিনীপুর, বর্ধমান, বাঁকুড়া জেলার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায়, এই শহরটির যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শহরে রেলস্টেশন, মেডিক্যাল কলেজ, শপিং মল, ব্র্যান্ডেড স্যালোঁ, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, সবই তৈরি হয়েছে। যার জন্য পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলের মানুষদের কাছে এই শহরে এসে বসবাস করার ইচ্ছা প্রবল ভাবে বাড়ছে। বর্তমানে আরামবাগ শহরে জায়গা–জমির দাম বেশি হওয়ায়, ফ্ল্যাটমুখী হতে দেখা যাচ্ছে মানুষজনদের। তাই, চাহিদা অনুযায়ী আরামবাগ শহরে নতুন নতুন ফ্ল্যাটের সংখ্যা দিনের পর দিন ব্যাপক হারে বাড়তে শুরু করেছে। অভিযোগ, ওই বড় বড় ফ্ল্যাটের প্ল্যান নাকি অফলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে আরামবাগ পুরসভা কার্যালয়ে। এ ক্ষেত্রে কোনও নিয়মকানুন না মেনে, আরামবাগ পুর কর্তৃপক্ষ অফলাইনে প্ল্যান পাস করে দিয়েছে। সে জন্য আবেদনকারীর কাছ থেকে ফিজ় বাদেও লাখ লাখ টাকা নিয়ে রিলিফ ফান্ডের নামে জমা রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি তৈরির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে এই টাকা নিয়ে। এ ক্ষেত্রে পুরসভার চেয়ারম্যান–সহ কতিপয় কর্মী ও আধিকারিকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে সরব বিজেপির কাউন্সিলার তথা বিরোধী দলনেতা ও অন্য কর্মীরা।

এখানে রিলিফ ফান্ড হলো একমাত্র ফান্ড, যার কোনও অডিট হয় না বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে, পুরসভার চেয়ারম্যান এবং এই পুরসভার এক জন দায়িত্বপূর্ণ কর্মচারী লেখা হোতার বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। এই বিষয়ে পুরসভার একমাত্র বিজেপি কাউন্সিলার তথা বিরোধী দলনেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে, সমস্ত প্ল্যান অনলাইনেই পাস করাতে হবে। কিন্তু এই নিয়ম না মেনে, পুর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০টি বিল্ডিংয়ের প্ল্যান অফলাইনে পাস করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তা থেকে ভালো রকম টাকা রিলিফ ফান্ডের নাম করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সম্প্রতি অফলাইনে বিল্ডিং পাস বন্ধ করে দিয়েছি। আগামী দিনে সব কিছুরই তদন্ত হবে। কোনও রকম দুর্নীতি আমরা বরদাস্ত করব না। যাঁরা অভিযুক্ত, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।’ অবিলম্বে এই লক্ষ লক্ষ টাকা কোথায় গেল, তার হিসেব দিতে হবে বলে দাবি তুলেছেন বিজেপির নেতা ও কর্মীরা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *