মোহনবাগানকে বিদায় জানিয়ে আবেগঘন পোস্ট সের্জিও গার্সিয়ার

সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: গতবারের মতো এবারও যথেষ্ট দাপটের সাথে লড়াই করেছিল মোহনবাগান (Mohun Bagan) সুপার জায়ান্ট। প্রথম থেকেই একের পর এক দলের বিপক্ষে সহজেই আসতে শুরু করেছিল জয়। তবে পরবর্তীতে জয় রথ আটকে দিয়েছিল পেট্র ক্র্যাটকির শক্তিশালী মুম্বাই সিটি এফসি। যদিও সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। বলা যায় সার্জিও লোবেরার হাত ধরে রীতিমতো ছন্দেই ছিল মেরিনার্সরা। পাশাপাশি এবার সকলকে চমকে নিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছিল ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাব।
– Advertisement –
বিশেষ করে হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচের দিকে নজর ছিল। আসলে পরিসংখ্যান অনুযায়ী ডার্বি জিতলেই খেতাব নিশ্চিত হয়ে যেত যেকোনও এক প্রধানের। কিন্তু অমীমাংসিত ফলাফলে শেষ হয়েছিল এই ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ লগ্নে ইস্টবেঙ্গল এডমুন্ড লালরিন্ডিকার গোলে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত জেসন কামিন্সের অনবদ্য হেডে সমতায় ফিরেছিল দল। যারফলে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকতে হয়েছিল সকলকে। দুই প্রধান জয় পেলেও গোল পার্থক্যে মোহনবাগানের তুলনায় অনেকটাই এগিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। যারফলে অনায়াসেই খেতাব চলে যায় তাদের ঘরে।
আরও পড়ুন: লাল-হলুদকে ভারত সেরা করে নেটমাধ্যমে কী লিখলেন রশিদ?
এসবের মাঝেই মরসুম শেষে দায়িত্ব ছাড়লেন বাগানের কন্ডিশনিং কোচ সের্জিও গার্সিয়া। বর্তমানে বাগানের প্রাক্তন কোচ হোসে মোলিনার সঙ্গে কাজ করবেন তিনি। তবে যেতে যেতে সবুজ মেরুন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে নেটমাধ্যমে বিশেষ বার্তা দিয়ে যান সের্জিও। যেখানে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় মোহনবাগান পরিবার। আজ আমাকে এমন একটি ক্লাবকে বিদায় জানাতে হচ্ছে, যা আমার জীবনকে এমনভাবে গড়ে তুলেছে যা আমি কখনো ভুলব না। মোহনবাগানে না আসা পর্যন্ত আপনি ঠিকভাবে বুঝতে পারবেন না আসল চাহিদা কাকে বলে। এখানে আপনি শুধু ভালো খেলার জন্য প্রতিযোগিতা করেন না। আপনি প্রতিদিন জেতার জন্য প্রতিযোগিতা করেন। এটাই ভারতের বৃহত্তম এই ক্লাবের মূল নির্যাস, যেখানে জেতাটা কোনো বিকল্প নয়, বরং একটি প্রত্যাশা যা এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি অনুশীলন পর্ব, প্রতিটি ম্যাচ এবং প্রতিটি কোণায় অনুভূত হয়।’
আরও লেখেন, ‘ এই দুটি সিজন ছিল অসাধারণ, কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং অবিস্মরণীয় মুহূর্তে পরিপূর্ণ। গত সিজনে আমরা একটি ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছি। এমন একটি ডাবল শিরোপা যা আমাদের স্মৃতিতে চিরকাল থেকে যাবে। কিন্তু শিরোপার ঊর্ধ্বে, আমি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি এখানকার মানুষদের, সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে এবং এই দলের অংশ হতে পারার গর্বকে।
আমি প্রথমেই হোসে ফ্রান্সিসকো মলিনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমার উপর আস্থা রাখার জন্য এবং আমাকে এই অনন্য অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ দেওয়ার জন্য। আমার ধন্যবাদ কোচিং স্টাফ ইগর, ফ্রান, অনউইড এবং অভ্রকেও—তাদের দৈনন্দিন পরিশ্রম এবং একজন পেশাদার হিসেবে আমাকে বিকশিত হতে সাহায্য করার জন্য।’
কোচ ও ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘ ধন্যবাদ, আলবার্তো, কঠিন মুহূর্তে আমার কথা শোনার জন্য, সেই সময়ের আলাপচারিতার জন্য, এবং সর্বোপরি, বন্ধুত্ব ও পেশাদারিত্বকে আলাদা রাখতে পারার পাশাপাশি সবসময় আমাকে সম্মান দেখানোর জন্য। এছাড়াও আমি বর্তমান কোচিং স্টাফ সার্জিও এবং ডেভিডকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই, এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য। স্পোর্টিং ডিরেক্টর বিনয় চোপড়াকেও ধন্যবাদ, আমার ওপর সবসময় আস্থা রাখার জন্য।’
‘সেই সাথে অবশ্যই, সমর্থকদের- আপনাদের নিঃশর্ত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ, সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেও আমাদেরকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আপনারাই এই ক্লাবের প্রাণ। আনন্দের শহর কলকাতায় কাজ করতে পারাটা আমার জন্য এক পরম সম্মানের বিষয় ছিল। আমি অবিস্মরণীয় স্মৃতি, বন্ধুত্ব এবং এমন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি যা আমার হৃদয়ে চিরকাল থেকে যাবে। প্রতিটি মুহূর্তে নিজের সেরাটা দিতে পেরে আমি গর্বিত।’