রাজধানীতে দোভাল-রুবিও বৈঠকে উঠে এল চিনের প্রভাব-সাইবার নিরাপত্তা

নয়াদিল্লি: ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ হল (Doval Rubio)। আমেরিকার বিদেশ সচিব ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।রুবিওয়ের ভারত সফরের অংশ হিসেবে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
– Advertisement –
দিল্লির একটি অত্যাধুনিক সরকারি ভবনে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনায় দুই নেতাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমুখী করার ওপর জোর দেন। অজিত দোভাল মার্কো রুবিওকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আজ শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, বরং বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একসঙ্গে কাজ করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই।”মার্কো রুবিও এই বৈঠকে বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পর্কগুলোর একটি।
আরও দেখুনঃ বাংলায় পরিবর্তনের ঝড়ে এবার রেড রোডে বন্ধ নামাজ!
আমরা প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়াতে চাই।” তিনি কোয়াড জোটকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।বৈঠকে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরে মুক্ত নৌচলাচল, সন্ত্রাসবাদ দমন, সাইবার নিরাপত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির যৌথ উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ান, বিশেষ করে যৌথ সামরিক মহড়া, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আধুনিক অস্ত্র প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়।
এই বৈঠকের আগে মার্কো রুবিও কলকাতায় মাদার টেরেসার মিশনারিজ অফ চ্যারিটিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। এটি তাঁর ভারত সফরের মানবিক দিকটিকে তুলে ধরেছে। দিল্লিতে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়েছে। অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠককে কূটনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কো রুবিওয়ের মতো একজন প্রভাবশালী নেতার ভারত সফর এবং অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে।
ভারতের একজন সিনিয়র কূটনীতিক বলেন, “বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। এই বৈঠক সেই দিক থেকে খুবই সময়োপযোগী।”দিল্লির সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বৈঠক নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।