মিলবে পেনশন, প্রতি মাসে শাশুড়িকে পিঠে চাপিয়ে পাহাড়-জঙ্গলে ৯ কিমি হাঁটেন গৃহবধূ - 24 Ghanta Bangla News
Home

মিলবে পেনশন, প্রতি মাসে শাশুড়িকে পিঠে চাপিয়ে পাহাড়-জঙ্গলে ৯ কিমি হাঁটেন গৃহবধূ

Spread the love

বিজ্ঞাপনে আর সরকারি খাতায় ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-র প্রবল ঢক্কানিনাদ। কিন্তু ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাস্তবচিত্রটা যে কতটা রূঢ়, তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ছত্তীসগঢ়ের একটি ঘটনা। পেনশনের সামান্য কয়টি টাকা তুলতে ৯০ বছরের বৃদ্ধা শাশুড়িকে পিঠে নিয়ে ৯ কিলোমিটার দুর্গম পথ পাড়ি দিলেন এক গৃহবধূ। সমাজমাধ্যমে এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে দেশজুড়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিসগঢ়ের সুরগুজা জেলার মৈনপত অঞ্চলের এক প্রত্যন্ত এলাকায়। জায়গাটি আদিবাসী অধ্যুষিত, বনজঙ্গলে ঢাকা। ঘটনার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, কাঠফাটা রোদের মধ্যে এক মহিলা তাঁর ৯০ বছর বয়সি শাশুড়িকে পিঠে চাপিয়ে জঙ্গল, পাহাড়, নদী-নালা পেরিয়ে হেঁটে চলেছেন। এই দৃশ্য দেখে নেটিজ়েনদের একাংশ বলেছেন তাঁদের ‘বিক্রম-বেতাল’-এর গল্পের কথা মনে পড়ছে। তবে এটা তো কোনও রূপকথার গল্প নয়। প্রান্তিক মানুষের টিকে থাকার নির্মম লড়াই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূর নাম সুখমানিয়া বাই। সুখমানিয়া জানিয়েছেন, প্রতি মাসে তাঁর শাশুড়ি ১,৫০০ টাকা করে পেনশন পান। আগে এই টাকা গ্রামে এসে পৌঁছে দিতেন সরকারি কর্মীরা। কিন্তু বর্তমানে এই পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। এ দিকে ব্যাঙ্ক থেকে জানানো হয়েছে পেনশনের টাকা তুলতে গেলে তাঁর শাশুড়িকে শারীরিক ভাবে উপস্থিত হতে হবে ব্যাঙ্কে। আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ছাড়া মিলবে না টাকা। ওই দুর্গম এলাকায় কোনও গণপরিবহন ব্যবস্থাও নেই। তাই নিরুপায় হয়েই প্রতি মাসে বৃদ্ধা শাশুড়িকে পিঠে তুলে ৯ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে ব্যাঙ্কে যেতে হচ্ছে তাঁকে।

এই ঘটনা সামনে আসতেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন সমাজকর্মীরা। তাঁরা বলছেন, একদিকে যখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সব পরিষেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে, তখন অন্য প্রান্তে পরিকাঠামোর অভাবে আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষ মৌলিক অধিকারগুলি থেকে পর্যন্ত বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নীতি নির্ধারণ এবং তার বাস্তবায়নের মধ্যে যে বিশাল ফাঁক থেকে গিয়েছে, ছত্তিসগঢ়ের এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *