কোনও ব্যক্তি জীবনে কখন কোন দশার মধ্যে দিয়ে যায়? কবে আসে শনি-রাহুর মহাদশা? - 24 Ghanta Bangla News
Home

কোনও ব্যক্তি জীবনে কখন কোন দশার মধ্যে দিয়ে যায়? কবে আসে শনি-রাহুর মহাদশা?

Spread the love

কোষ্ঠীর সঠিক বিশ্লেষণ করতে গেলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গ্রহের অবস্থান দেখলেই হয় না, কোন গ্রহ কোন ভাব বা ঘরে রয়েছে, তারা শুভ না অশুভ প্রভাব ফেলছে, কেন্দ্র ও ত্রিকোণ স্থানের অবস্থা কেমন— এই সব বিষয়ও গভীর ভাবে বিচার করতে হয়। পাশাপাশি লগ্ন, যোগ-রাজযোগ, বিমশোত্তরী মহাদশা এবং গ্রহের গোচর বিচারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম কী দেখবেন?

প্রথমেই কোষ্ঠীতে কেন্দ্র স্থানের অবস্থা দেখা প্রয়োজন। জ্যোতিষে প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম ও দশম ভাবকে কেন্দ্র স্থান বলা হয়। যদি এই কেন্দ্র স্থানে কোনও গ্রহ শুভ বা সৌম্য গ্রহ যেমন- বৃহস্পতি, শুক্র, বুধ বা পূর্ণ চাঁদ থাকে, তা ভালো লক্ষণ। সেই ব্যক্তির কুণ্ডলীকে সাধারণত শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। জাতকের জীবনে শুভ প্রভাব পড়ে, মানসিক শান্তি এবং নানা বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে কেন্দ্র স্থানে ক্রূর বা অশুভ গ্রহ যেমন- শনি, মঙ্গল, রাহু বা কেতু থাকলেও কুণ্ডলী শক্তি পায়। সেই ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থাকা গ্রহ যে ভাবের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেই সুখ কিছুটা নষ্ট হতে পারে। আবার যদি একই সঙ্গে শুভ ও অশুভ গ্রহ কেন্দ্র স্থানে থাকে, তাহলে জীবনে মিশ্র ফল দেখা যায়।

ত্রিকোন স্থানের বিচার

কেন্দ্র স্থানের পর ত্রিকোণ স্থানের বিচার করা প্রয়োজন। প্রথম, পঞ্চম ও নবম ভাবকে ত্রিকোণ স্থান বলা হয়। যদি ত্রিকোণ স্থানে শক্তিশালী বা শুভ গ্রহ অবস্থান করে, তাহলে সেই কুণ্ডলীকে অত্যন্ত ফলদায়ক ও শুভ ধরা হয়। এমন ব্যক্তি জীবনে সৌভাগ্যে অধিকারী হন। উচ্চশিক্ষা লাভ করেন, সম্মান ও উন্নতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। এরপর কোষ্ঠীতে বিদ্যমান বিভিন্ন যোগ ও রাজযোগ বিচার করা হয়। সেই সঙ্গে গ্রহগুলির অবস্থা— তারা উচ্চ, নীচ, বক্রী বা অস্ত অবস্থায় আছে কিনা, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

জন্মের সময়ের অবস্থান

জন্মের সময় কোন গ্রহের মহাদশা চলছিল এবং ভবিষ্যতে কোন দশাক্রম আসবে, সেটাও বিশ্লেষণের বড় অংশ। প্রাচীনকালে হাতে তৈরি জন্মপত্রিকায় ‘ভুক্ত’ ও ‘ভোগ্য’ দশার হিসাব করা হত। ‘ভুক্ত’ অর্থাৎ জন্মের সময় পর্যন্ত যে সময় অতিবাহিত হয়েছে। ‘ভোগ্য’ অর্থ সেই মহাদশার অবশিষ্ট সময়, যা জাতক ভবিষ্যতে ভোগ করবেন। একটি গ্রহের মহাদশা সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী গ্রহের মহাদশা শুরু হয়।

বিমশোত্তরী মহাদশার ক্রম জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্রম হলো— সূর্য, চাঁদ, মঙ্গল, রাহু, বৃহস্পতি, শনি, বুধ, কেতু ও শুক্র। সূর্যের মহাদশা ৬ বছর, চাঁদের ১০ বছর, মঙ্গলের ৭ বছর, রাহুর ১৮ বছর, বৃহস্পতির ১৬ বছর, শনির ১৯ বছর, বুধের ১৭ বছর, কেতুর ৭ বছর এবং শুক্রের মহাদশা ২০ বছর স্থায়ী হয়। এই দশাগুলির প্রভাবই মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সুখ, দুঃখ, সাফল্য বা সংগ্রামের পরিস্থিতি তৈরি করে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *