সমর্থকদের উদযাপনে ফাঁকাই রইল মঞ্চ, VIP গ্যালারিতেই হাতে ট্রফি উঠল ইস্টবেঙ্গলের
অনেক টালবাহানার পর এ বার ISL শুরু হয়েছে। এক একটা দল ১৩টা করে ম্যাচ খেলবে বলে শুরু হয়েছিল। আর এই ফর্ম্যাটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেমন বেশি সংখ্যক ম্যাচ জেতা তেমনই গুরুত্বপূর্ণ গোল পার্থক্য। আর সেখানেই বাজিমাত করল ইস্টবেঙ্গল। ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ জিতল লাল হলুদ। গোল পার্থক্যে পেছনে ফেলল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২৬ পয়েন্টে পৌঁছেও সবুজ মেরুন রানার্স।
আর এই গোল পার্থক্যে জিতে বাঁধ ভাঙল ইস্টবেঙ্গল জনতার উচ্ছ্বাস। এমনিতেই কিশোরভারতী স্টেডিয়াম আকারে অনেক ছোট। এই ম্যাচে অফিসিয়াল দর্শক সংখ্যা ছিল ৮১১২। ৫০০ ও ১০০০ টাকার টিকিট কেটেই দর্শকরা ভিড় জমিয়েছিলেন। আর সেখানে সেই চেনা ইস্টবেঙ্গলকে দেখা গেল। পিছিয়ে গিয়ে জয়।
ম্যাচ শেষের বাঁশিটা বাজতেই গ্যালারি থেকে দর্শকরা মাঠে ঢুকতে থাকেন। কেউ গেট ভেঙে তো কেউ বেড়া টপকে মাঠে ঢোকেন। প্লেয়ারদের সঙ্গে চলে সেলিব্রেশন। আর এখানেই তৈরি হয় সমস্যা। একদিকে দর্শকরা যেখানে সেলিব্রেশন করছেন সেই সময়ে মাঠের মাঝখানে তৈরি হচ্ছিল পুরস্কার দেওয়ার মঞ্চ। কিন্তু সেখানে তাল কাটল। মাঠে পুরস্কার মঞ্চ তৈরি করেও সমর্থকদের ঢলে দেওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত ভিআইপি গ্যালারিতে বিশেষ ব্যবস্থা করে ট্রফি তুলে দেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। লাল হলুদ জনতাকে বারবার বলেও মাঠ থেকে বের করা যায়নি। বারবার পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে ঘোষণা করা হচ্ছিল দর্শকরা বেরিয়ে না গেলে পুরস্কার দেওয়া যাবে না। কল্যাণ চৌবে নিজে গিয়ে কথা বললেও তাতে কাজ হয়নি। তাই ভিআইপি গ্যালারিতেই দেওয়া হলো ট্রফি আর তার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে প্লেয়াররা ট্রফি নিলেন, সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকরা স্লোগান দিয়ে গেলেন। ইস্টবেঙ্গল প্লেয়ারদের প্রত্যেকের গায়ে সাদা টি শার্ট, যেখানে লেখা ‘ছিলাম আছি থাকব’।

ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা যখন মাঠে ঢোকেন তখন মেসি কাণ্ডের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু সেদিনের সেই ঘটনা ছিল না পাওয়ার, মেসিকে দেখতে না পাওয়ার রাগ। আর এদিনেরটা ছিল শাপমোচনের। ২২ বছরের অপেক্ষার অবসানের।
প্লেয়ারদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পর গোল্ডেন বুট তুলে দেওয়া হয় ইউসেফ এজ়েজারিকে। তিনি ১১টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।