ক্ষেপে উঠছে যুবসমাজ! ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের - 24 Ghanta Bangla News
Home

ক্ষেপে উঠছে যুবসমাজ! ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

Spread the love

cockroach-janata-party-cjp-investigation-india

নয়াদিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়ায় আচমকা ভাইরাল হয়ে ওঠা ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party)বা CJP-কে ঘিরে এবার কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সরকারি সূত্রের খবর, প্ল্যাটফর্মটির কার্যকলাপ, বিদেশি যোগাযোগ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককেও (MeitY) বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

– Advertisement –

২০২৬ সালের মে মাসে ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ নামে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি তৈরি হয়। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বেকার যুবকদের প্রসঙ্গে একটি মন্তব্য করার পর সেই বিষয়কে কেন্দ্র করেই অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট তৈরি শুরু হয়। ১৬ মে ২০২৬-এ প্ল্যাটফর্মটি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে। এর পিছনে রয়েছেন অভিজিৎ দিপকে নামে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক, যিনি অতীতে রাজনৈতিক সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে আমেরিকার বোস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র।

আরও দেখুনঃ গত ৫ বছরে বিশাল সাফল্য! দেশে-বিদেশে অজ্ঞাত পরিচয়ের গুলিতে নিহত ১৫ হেভিওয়েট জঙ্গি কমান্ডার

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ‘CJP’ ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমের তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। নিজেদের কোনও রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং একটি “ডিজিটাল মেম আন্দোলন” বা ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি করা মিম, কটাক্ষ এবং তির্যক মন্তব্যের কারণে Gen Z প্রজন্মের একাংশের মধ্যে এই প্ল্যাটফর্ম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরেও আসে এই কার্যকলাপ। সরকারি সূত্রের দাবি, প্ল্যাটফর্মটির মূল পরিচালনা ভারতের বাইরে থেকে করা হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, শুধুমাত্র ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টের আড়ালে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অসন্তোষ ছড়ানোর কোনও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে কি না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এখন খতিয়ে দেখছে, এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কোনও বিদেশি অর্থায়ন, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা সংগঠিত প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা জড়িত রয়েছে কি না। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যঙ্গ করে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরির প্রবণতাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আইনি দাবির ভিত্তিতে মাইক্রোব্লগিং এক্স হ্যান্ডেলে ভারতে ‘CJP’-এর অফিশিয়াল হ্যান্ডেল ব্লক করে দিয়েছে। অর্থাৎ ভারত থেকে ওই অ্যাকাউন্ট আর দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি কেন্দ্র তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়ে অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও CJP-র উপস্থিতি এবং কার্যকলাপের উপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমানে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, মিম সংস্কৃতি এবং অনলাইন আন্দোলনের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই রাজনৈতিক মতামত তৈরি করছে। ফলে এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম কখন শুধুমাত্র ব্যঙ্গের সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কনটেন্ট গণতান্ত্রিক পরিসরেরই অংশ। আবার সরকারের দাবি, যদি কোনও প্ল্যাটফর্ম বিদেশি প্রভাব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *