পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জের, ওষুধের জোগানে টান, লোকাল পারচেজ়ের বার্তা হাসপাতালকে
এই সময়: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে এ বার রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও। আমেরিকা–ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে প্রায় অবরুদ্ধ হরমুজ় প্রণালী। আর তার জেরেই ওষুধ সরবরাহে টান পড়েছে সরকারি হাসপাতালে। স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় বিকল্প ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, রাজ্যে একাধিক প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা–সামগ্রীর সরবরাহে কেন্দ্রীয় ভাবে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় হাসপাতাল ও জেলা প্রশাসনকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিকর্তার জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে স্টোর ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এসএমআইএস)–এ একাধিক ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলিকে বিকল্প পদ্ধতিতে স্থানীয় স্তরেই প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরবরাহের আশায় বসে না থেকে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থানীয় স্তরে কিনে নিতে (লোকাল পারচেজ়) বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সামগ্রিক সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেনে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রভাব পড়েছে ওষুধ ও চিকিৎসা–সামগ্রী সংগ্রহ প্রক্রিয়ায়। ফলে কিছু অত্যাবশ্যক ওষুধ ও সরঞ্জামের জোগানে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্তরে যে সব সংস্থা ওষুধ সরবরাহ করে, তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে ওষুধ সরবরাহ করে উঠতে পারছে না। কারণ, বিশ্ব বাজারে ওষুধের কাঁচামাল বা অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই)–এর দাম বেড়ে গিয়েছে। ফলে টেন্ডারের শর্ত মেনে পুরোনো দামে আর ওষুধ সরবরাহ করে উঠতে পারছে না সরবরাহকারী সংস্থাদের একাংশ।
স্বাস্থ্য অধিকর্তার নির্দেশে মনে করানো হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অধীন ব্যয় ও ক্রয় নীতি বিভাগ ইতিমধ্যেই ‘ফোর্স মেজ়িউর’ কার্যকর করেছে। সাধারণ ভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিশেষ পরিস্থিতিতে চুক্তি বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হলে এই ধারা প্রয়োগ করা হয়। স্বাস্থ্য মহলের বক্তব্য, স্বাস্থ্য ভবনের সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট, পরিস্থিতিকে প্রশাসনিক স্তরে সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরবরাহ সমস্যার তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন মাত্রার প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, নর্মাল স্যালাইন, ডেক্সট্রোজ-সহ বিভিন্ন ধরনের আইভি ফ্লুইড, ওআরএস, ডায়াবিটিস ও স্থূলতার ওষুধ মেটফরমিন, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ টেলমিসার্টান, গ্যাস–অম্বলের ওষুধ প্যান্টোপ্রাজল, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট, ডিসপোজ়েবল হাইপোডার্মিক সিরিঞ্জ-সহ বেশ কিছু চিকিৎসা–সামগ্রী। এগুলির মধ্যে প্রায় সবক’টিই প্রতিদিনের চিকিৎসা পরিষেবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, ‘যদি দীর্ঘ সময় এই সরবরাহ সঙ্কট বজায় থাকে তা হলে সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগী পরিষেবার উপরে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জেলা হাসপাতাল, গ্রামীণ হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি কেন্দ্রীয় সরবরাহ ব্যবস্থার উপরে বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় সমস্যার মাত্রা সেখানেই বেশি হওয়ার আশঙ্কা। জরুরি পরিষেবা, অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় চাপ তৈরি হতে পারে।’ তিনি জানান, সে জন্যেই হাসপাতালগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরবরাহের মুখাপেক্ষী না থেকে স্থানীয় ভাবে অনুমোদিত ক্রয়পদ্ধতির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সামগ্রী কেনার ব্যবস্থা করতে হবে।