কেরলের পর তামিলনাড়ু! দুই দক্ষিণী রাজ্যেই এ বার AI মন্ত্রী
প্রযুক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে ভারতের শাসনব্যবস্থাতেও সূচনা হলো এক ঐতিহাসিক বিবর্তনের। একদিন আগেই করেছিল কেরালা। এ বার প্রতিবেশী রাজ্য তামিলনাড়ুও ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা AI- বিষয়ে সম্পূর্ণ পৃথক একটি মন্ত্রক গঠন করল। বৃহস্পতিবারই তামিলনাড়ুর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। আর সেই সম্প্রসারিত তালিকায় রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের পরিধি বাড়িয়ে নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজিটাল সার্ভিসেস’ মন্ত্রক।
নতুন ২৩ জন বিধায়ককে মন্ত্রী করা হয়েছে। ফলে বিজয় মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩৩-এ দাঁড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী-সহ ৩২ জন এ দিন নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কংগ্রেসের ২ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। IUML-এর একজন পরে শপথ নেবেন। এই নতুন মন্ত্রিসভায় ৪ জন মহিলা মন্ত্রী স্থান পেয়েছেন। তবে বিজয়ের মন্ত্রিসভার সবথেকে বড় চমক হলো ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর পৃথক মন্ত্রক গঠন।
এই নবগঠিত হাই-টেক দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আর কুমার-কে। এই দপ্তর মূলত রাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে সঠিক নীতি নির্ধারণ, ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমূহের বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপরে নজর রাখবে।
এর ঠিক একদিন আগেই একটি সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কেরালার নতুন UDF সরকারও ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে AI মন্ত্রক গঠনের ঘোষণা করেছিল। বর্ষীয়ান IUML নেতা পি কে কুনহালিকুট্টিকে শিল্প ও বাণিজ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি এই নতুন AI দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে এই প্রবণতা অত্যন্ত ইতিবাচক। আইটি দপ্তরের অধীনে একটি ছোট শাখা হিসেবে না রেখে, AI-এর জন্য আলাদা মন্ত্রক তৈরি করায় ভারতীয় প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর আরও গতি পাবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, দক্ষিণ ভারতের এই দুই রাজ্যের দেখানো পথ ধরে আগামী দিনে দেশের অন্যান্য রাজ্যও এই প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক মডেল গ্রহণ করতে পারে।