মনিপুরে চলছিল যুদ্ধের প্রস্তুতি! সেনা অভিযানে উদ্ধার বিপুল মারণাস্ত্র
ইম্ফল: ইম্ফলের (imphal)লামদেং এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় অভিযানে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও যুদ্ধ সামগ্রী। মণিপুর পুলিশ, আসাম রাইফেলস এবং সিআরপিএফ-এর যৌথ উদ্যোগে চালানো এই বিশেষ …
ইম্ফল: ইম্ফলের (imphal)লামদেং এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় অভিযানে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও যুদ্ধ সামগ্রী। মণিপুর পুলিশ, আসাম রাইফেলস এবং সিআরপিএফ-এর যৌথ উদ্যোগে চালানো এই বিশেষ অভিযানে মোট ৬৭টি অত্যাধুনিক অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, এই অভিযান উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
#WATCH | Imphal | Manipur Police, Assam Rifles and CRPF have recovered and secured a large cache of arms and war-like stores consisting of 29 weapons comprising AK series rifles, M-series rifles, pistols and other firearms, during a cordon and search operation at an unauthorised… pic.twitter.com/NpcWWL0nWl
— ANI (@ANI) May 21, 2026
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লামসাং থানার অন্তর্গত লামদেং এলাকায় একটি অবৈধ ইউএনএলএফ (পি) ক্যাম্পের সন্ধান পেয়ে ২০ মে থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন চালায়। অভিযানের প্রথম ধাপে ২৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ছিল একাধিক AK সিরিজের রাইফেল, M-সিরিজ রাইফেল, পিস্তল এবং অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের পরিমাণ এবং ধরন দেখে তদন্তকারীরা মনে করছেন, জঙ্গি সংগঠনটি বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল।
আরও দেখুনঃ শেষ লিগ ম্যাচেও ধোনিকে নিয়ে সংশয়, চোটে ধাক্কা চেন্নাই শিবিরে
অভিযান চলাকালীন ২১ মে আরও তল্লাশি চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত ৩৮টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ যুদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার করে। এই দ্বিতীয় ধাপে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির মধ্যে রয়েছে AK সিরিজ রাইফেল, M-সিরিজ রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, কার্বাইন, শটগান, মর্টার এবং RPG-7 লঞ্চার। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে অ্যান্টি-ড্রোন জ্যামার এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। এত বড় পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অ্যান্টি-ড্রোন জ্যামার এবং RPG-7 লঞ্চারের মতো সামগ্রী অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ এই ধরনের সরঞ্জাম সাধারণত উচ্চ প্রশিক্ষিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিই ব্যবহার করে থাকে। ফলে এই অস্ত্র কোথা থেকে এল, কারা সরবরাহ করল এবং এর পিছনে বৃহত্তর কোনও নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে মণিপুরে অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক অভিযান চালিয়ে চলেছে। বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয়তা ও বেআইনি অস্ত্র মজুদের খবর সামনে আসার পর থেকেই প্রশাসন আরও সতর্ক হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই অভিযানের পর নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খুঁজে দেখছেন, এই অস্ত্রভাণ্ডারের সঙ্গে অন্য কোনও জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে কি না।