হঠাৎ ‘ভ্যানিশ’ হওয়ার দিন শেষ! জেন জ়ি-দের ডেটিং দুনিয়ায় এ বার নতুন এন্ট্রি ‘সফট গোস্টিং’-এর
গোস্টিং-এর দিন শেষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে নতুন এক শব্দ—‘সফট গোস্টিং’ (Soft Ghosting)। ‘কভি আলবিদা না কহে না…’ এই গানের মতোই প্রেমের শুরুটা যদি মধুর হয়, তা হলে শেষটা কেন নয়? এই প্রশ্নই এখন তুলছে জেন জ়ি। সম্প্রতি ভারতীয় ডেটিং অ্যাপ কোয়্যাককোয়্যাক–এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশির ভাগ জেন জ়ি পছন্দ করছেন না গোস্টিং বা হঠাৎ উবে যাওয়া। তাঁরা ব্রেকআপ হোক বা রিজেকশন, সবেতেই সময় নিতে চাইছেন। হঠাৎ কর্পূরের মতো উবে না গিয়ে অর্থাৎ গোস্ট না করে নতুন পথ বেছে নিয়েছে জেন জ়ি।
কোয়্যাককোয়্যাক এর তথ্য অনুয়ায়ী, ২০২৬ সালে এপ্রিলের মধ্যে দেশের বিভিন্ন শহরে ৯ হাজারেরও বেশি সিঙ্গল মানুষের উপর সমীক্ষা চালানো হয়। সেখানে দেখা গিয়েছে, ৫১ শতাংশ মানুষ মনে করেন এখনকার ডেটিং কালচারে বিচ্ছেদও আগের তুলনায় অনেক বেশি ‘ইমোশনালি অ্যাওয়ার’ হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ, কেউ আর ইচ্ছে করে অন্যকে আঘাত করতে চাইছেন না।
‘রুড গোস্টিং’-এর বদলে ‘কাইন্ড রিজেকশন’

একসময় হঠাৎ করে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়াকেই ‘গোস্টিং’ বলা হতো। কোনও কথাবার্তা নেই, নেই কোনও গুড বাই—মানুষ যেন আচমকাই উধাও হয়ে যেত। কিন্তু এখন অনেকেই সেই পথ থেকে সরে আসছেন। সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এমন আচরণ করতে চান যাতে সামনের মানুষটি কম কষ্ট পান।
কাউকে অপমান না করেও সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব

বর্তমানে অনেকেই সরাসরি ‘আমি আগ্রহী নই’ বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না। তার বদলে তাঁরা বলছেন, ‘এই মুহূর্তে আমি রিলেশনশিপের জন্য প্রস্তুত নই।’ সমীক্ষা অনুযায়ী, হায়দরাবাদ, মুম্বই ও কলকাতার বহু মহিলা এবং পুনে, কোচি ও আমেদাবাদের বহু পুরুষ এই ‘নাইস অ্যাভয়ডেন্স’ ট্রেন্ড অনুসরণ করছেন। তাঁদের মতে, কাউকে অপমান না করেও সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
কী এই ‘সফট গোস্টিং’?

সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়া নয়, আবার আগের মতো কাছেও না থাকা—এই মাঝামাঝি অবস্থাকেই বলা হচ্ছে ‘সফট গোস্টিং’। অর্থাৎ, মানুষটি হয়তো নিয়মিত কথা বলছেন না, কিন্তু মাঝেমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক দিচ্ছেন, স্টোরি দেখছেন বা কম যোগাযোগ রাখছেন। এতে সম্পর্কের ধরন বদলে যায়, কিন্তু পুরোপুরি যোগাযোগও ছিন্ন হয় না। রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বিশেষ করে ২২ থেকে ২৮ বছরের তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়া

সমীক্ষায় অংশ নেওয়া বহু মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা এখন ‘কোল্ড টার্কি’ পদ্ধতিতে সম্পর্ক শেষ করতে চান না। অর্থাৎ, একদিনে সব বন্ধ না করে ধীরে ধীরে রিপ্লাই দেওয়া কমিয়ে দেন। আগে যেখানে কয়েক ঘন্টা কথা বলতেন তাঁরা, এখন সেখানে কয়েক মিনিট কথা বলেন। তাঁদের মতে, এতে অন্যদিকের মানুষটিও মানসিক ভাবে প্রস্তুত হওয়ার সময় পান।
মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব

কোয়্যাক কোয়্যাক ডেটিং অ্যাপের কর্তা বলেন, ‘আধুনিক প্রজন্ম এখন মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। তাই সম্পর্ক ভাঙলেও তাঁরা চাইছেন সেটি যেন কম আঘাত দেয়। শুধু সম্পর্ক তৈরি নয়, সম্পর্ক শেষ করার ক্ষেত্রেও এখন ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।’