শব্দদানব পরাস্ত হোক, তবে ধর্ম ও অনুষ্ঠান নির্বিশেষে
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘রুলস ২০০০’ এখনও পর্যন্ত একটি মৌলিক বিধি এবং তাকে ভিত্তি করে রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে প্রয়োজনীয় বিধিনিয়ম তৈরি করতে বলা হয়েছে এবং প্রায় সব রাজ্যেই তা কার্যকর হয়েছে। ‘রুলস ২০০০’-এর প্রথমেই বলা হয়েছে প্রকাশ্যে শব্দদূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ দরকার ‘জনগণের’ (ইংরেজিতে ‘অফ দি পিপল’, অন্য কোনও ভেদাভেদ নেই) স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য। এই রুলস-এর বৈধতা নির্দিষ্ট করা হয়েছে আরও আগের একটি শক্তিশালী আইন, ‘দি এনভায়রনমেন্ট (প্রোটেকশন) অ্যাক্ট অ্যান্ড রুলস ১৯৮৬’ থেকে। রুলস ২০০০-এর মূল বিষয়— প্রথম, প্রশাসনের লিখিত অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে কোথাও মাইক বাজানো যাবে না। দ্বিতীয়, দিনের বেলা সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট শব্দমাত্রার মধ্যে শুধু অনুমতির ভিত্তিতে মাইক বাজানো যাবে। এবং রাত ১০টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে মাইক বাজানো যাবে না। তবে রাজ্য সরকার বিশেষ শর্তে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কখনও কখনও রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিশেষ অনুমতি দিতে পারে। তা-ও এক বছরে ১৫ দিনের বেশি নয়। তৃতীয়, রাত দিন মিলিয়ে চারটি এলাকার জন্য শব্দমাত্রা নির্দিষ্ট করা হয়েছে— শিল্পাঞ্চল এলাকায় দিনে সর্বোচ্চ ৭৫ , রাতে ৭০, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে সর্বোচ্চ ৬৫, রাতে ৫৫, জনবসতি এলাকায় দিনে ৫৫, রাতে ৪৫, এবং যেখানে নীরবতা বাঞ্ছনীয় সেখানে দিনে ৫০, রাতে ৪০ ডেসিবেল। অর্থাৎ যে কোনও ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে মাইক বাজানো ২০০০ সাল থেকেই বেঁধে দেওয়া, সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীন ভাবে।