‘লুটেরাদের ছেড়ে কথা বলব না!’ অভিষেক, সোনা পাপ্পু, জাভেদ খানের সম্পত্তি কত?
কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই এবার তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করল নতুন বিজেপি সরকার। একের পর এক খুলছে দুর্নীতির ফাইল। সোমবার খাস ভবানীপুরের মঞ্চ থেকে …
কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই এবার তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করল নতুন বিজেপি সরকার। একের পর এক খুলছে দুর্নীতির ফাইল। সোমবার খাস ভবানীপুরের মঞ্চ থেকে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ চার হেভিওয়েট নেতার সম্পত্তির বিস্ফোরক খতিয়ান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভার ফাইল খুলে দুর্নীতির তদন্তে নবান্নে বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। (Suvendu Adhikari alleges massive corruption by TMC leaders)
এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৪ জনের নাম বলব, তারা কীভাবে বাংলাকে লুঠ করেছে আপনাদের জানা নেই।” এর পরেই তিনি বেছে বেছে বেলেঘাটার রাজু নস্কর, কসবার সোনা পাপ্পু, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জাভেদ খানের ছেলের সম্পত্তির খতিয়ান দেন।
কার কত সম্পত্তি? শুভেন্দুর দেওয়া খতিয়ান
- জাভেদ খানের ছেলে: মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, তাঁর নামে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৯০টি সম্পত্তি রয়েছে।
- কসবার সোনা পাপ্পু: তাঁর নামে রয়েছে ২৪টি সম্পত্তি।
- বেলেঘাটার রাজু নস্কর: তাঁর নামে রয়েছে ১৮টি সম্পত্তি।
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা কর্পোরেশন থেকে আনা তালিকা অনুযায়ী অভিষেকের সংস্থা ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে ১৪টি, নিজের নামে ৪টি এবং তাঁর বাবার নামে ৬টি, অর্থাৎ মোট ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। আমতলায় রয়েছে প্রাসাদের মতো অফিস।
লুটেরাদের জন্য নবান্নে বিশেষ কমিটি
কলকাতা পুরসভার ফাইল খোলার ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে কড়া তদন্ত হবে। এদিন তিনি বলেন, “কীভাবে এরা বাংলাকে লুটেছে, আপনারা ভাবতেই পারবেন না। আমরা আজ ক্যাবিনেটে (মন্ত্রিসভায়) বিশেষ কমিটি গঠন করে দিয়েছি। যে কমিটি এই লুটেরাদের খবর নেবে। ছেড়ে কথা বলার লোক নই আমরা।”
প্রাক্তন মন্ত্রীদের গ্রেফতারির প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী শিবিরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “যেভাবে শান্তনু, সুজিত ভিতরে ঢুকে গিয়েছে, আগামী দিনে আইন মেনে বাকিদেরও হাজতবাস করাবে বিজেপি সরকার।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের এই ‘অ্যাকশন’ মুডে স্পষ্ট যে, আগামী দিনে রাজ্যের দুর্নীতি তদন্ত আরও গতি পেতে চলেছে।