ভেঙে দেওয়া হলো পাহাড়ের তিনটি পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ড
ভেঙে দেওয়া হলো পাহাড়ের তিনটি পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ড। ওই তিনটি পুরসভার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মহকুমা শাসকদের। সোমবারই এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
পাহাড়ের তিনটি-সহ উত্তরবঙ্গের চারটি পুরসভায় মহকুমা শাসককে প্রশাসকের দায়িত্বে বসাল রাজ্য সরকার। সোমবার পুর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে কার্শিয়াং (Kurseong), মিরিক এবং কালিম্পং পুরসভায় স্থানীয় মহকুমা শাসককে প্রশাসক করা হয়েছে। একই ভাবে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর পুরসভায় প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গঙ্গারামপুরের মহকুমা শাসককে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার বদলের পরেই গত সপ্তাহেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সমস্ত পুরসভায় রাজ্যের তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস মনোনীত প্রশাসকদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কেন পাহাড়ের তিনটি পুরসভা নিয়ে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে? কারণ, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক পুরসভার মেয়াদ ২০২২ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ২০২২-এ ওই তিনটি পুরসভার মেয়াদ শেষ হলেও পূর্বতন পুর চেয়ারম্যানকেই প্রশাসক পদে বসিয়ে পুরসভাগুলি চালানো হচ্ছিল। রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের প্রশাসক পদে বসানোয় নানা বেআইনি কাজ সেখানে হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে ওই তিনটি পুরসভায় পানীয় জল প্রকল্পের জন্য প্রচুর টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু এক কদমও কাজ এগোয়নি।
রাজ্যে পালাবদলের পরে ওই তিনটি পুরসভার নথি লোপাট করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত। এই নিয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চান তিনি। তার পরেই সোমবার এই পদক্ষেপ করেছে রাজ্যে পুর দপ্তর।
দার্জিলিংয়ের সাংসদের দাবি, ‘তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অধীনে ২০২২ সাল থেকে কোনও নির্বাচন ছাড়াই অগণতান্ত্রিকভাবে এই পুরসভাগুলি চালানো হচ্ছিল।’ তিনি জানান, জল সরবরাহ, স্যানিটেশন, রাস্তার আলো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, এবং জনস্বাস্থ্য সুবিধার মতো প্রয়োজনীয় পৌর পরিষেবাগুলিতে যাতে বাধা না আসে নিশ্চিত করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দ্রুত সেখানে নির্বাচন হবে বলেও আশাবাদী রাজু বিস্ত।