Supreme Court: ‘পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর’, মাদ্রাসা মামলায় কেন বলল সুপ্রিম কোর্ট? | ‘Our Experience With Recruitment in West Bengal is Horrible’, Supreme Court Slams Madrasa recruitment Process
নয়াদিল্লি: গত কয়েক বছরে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে নিয়ে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট। চাকরি গিয়েছে ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। এই আবহে মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ নিয়ে মামলায় মাদ্রাসার পরিচালন সমিতি ও পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ বলল, “গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর।” একইসঙ্গে বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, মাদ্রাসা রুল মেনে মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি গঠন হয়নি।
তৃণমূল সরকারের আমলে প্রধানত ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাদ্রাসাগুলিতে প্রচুর শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলির পরিচালন কমিটি এই নিয়োগ করেছিল। অভিযোগ উঠে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘ওয়াক-ইন-ইন্টারভিউ’-র মাধ্যমে নিয়োগ হয়। মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
কী বলল শীর্ষ আদালত?
সেই মামলারই শুনানিতে এদিন শীর্ষ আদালত মাদ্রাসাগুলির পরিচালন কমিটি ও বিগত তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে। এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, “গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর। মাদ্রাসা রুল মেনে মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি গঠন হয়নি।” এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, “কীভাবে পরিচালন কমিটি নিয়োগ করার দায়িত্ব নিতে পারে? মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন যখন কার্যকর নয়, তখন নিয়ম অনুযায়ী স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া উচিত। কীভাবে পরিচালন কমিটি নিয়োগ করতে পারে? হাইকোর্ট কি এব্যাপারে কোনও নির্দেশ দিয়েছে?”
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বেঞ্চ জানতে চায়, “নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি কি নেওয়া হয়েছিল? হাজারো মাদ্রাসা রয়েছে। রাজ্যে সবার পরিচালন কমিটি নিজের মতো নিয়োগ করবে, আর সরকার তার টাকা মেটাবে?” নিয়োগকারীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত বলে, “কারা নিয়োগকারী? তাঁদের কি যোগ্যতা রয়েছে?”
নিয়োগ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, “আপনারা আপনাদের ব্লু আইড বয়েজদের নিয়োগ করেছেন। আর কেন তাঁদের নিয়োগ করেছেন, সেটাও আমরা জানি।” বিচারপতিরা জানতে চান, “সরকারের কোনও মনোনীত ব্যক্তি ছিলেন পরিচালন কমিটিতে?” মামলার বিস্তারিত শুনানি আগামিকাল হবে।