পণ, অবসাদ, গাঁজা, গর্ভপাত— ত্বিষা কাণ্ডে দুই পক্ষে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি! কোথায় লুকিয়ে সমর্থ?
‘সুপরিকল্পিত খুন, প্রভাব খাটিয়ে আগাম জামিন’
গল্পের অন্য পিঠটা কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টো এবং ভয়ঙ্কর। নয়ডা থেকে ছুটে আসা কান্নায় ভেঙে পড়া ত্বিষার বাবা-মায়ের দাবি, তাঁদের মেয়েকে ‘খুন’ করা হয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে স্বাধীন কেরিয়ার গড়তে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। চার দেওয়ালে বন্দি করে তাঁর উপরে চালানো হতো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। ত্বিষার বাবার নবনিধি শর্মার প্রশ্ন,
‘যে মেয়ে আজ আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বেঁচে নেই, তাকে মাদকাসক্ত বা মানসিক রোগী সাজিয়ে দেওয়া খুব সহজ! ওর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন কীসের? নিজেদের বাঁচাতে এবং অপরাধ ঢাকতেই এই মনগড়া গল্প ফাঁদছেন একজন প্রাক্তন বিচারক।’
ত্বিষার ভাই, ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর হর্ষিত শর্মার দাবি, তাঁর দিদিকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুর মাত্র তিন দিন আগে, অর্থাৎ, ৯ মে ত্বিষা তাঁর মাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, ‘মা, প্লিজ কাল এসে আমায় নিয়ে যাও, এখানে জীবন নরক হয়ে গিয়েছে।’ CCTV ফুটেজের সূত্র ধরে মেজর হর্ষিত শর্মা প্রশ্ন তুলেছেন,
‘ঘটনার পরে শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে অত্যন্ত শান্ত ভাবে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে দেখা গিয়েছে, একজন মুমূর্ষুকে বাঁচানোর জন্য তাড়াহুড়ো করতে দেখা যায়নি। বাড়ি থেকে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের দূরত্বে থানা হওয়া সত্ত্বেও তারা পুলিশকে জানায়নি, প্রথম ফোন আমরাই করি।’
ত্বিষার বাপের বাড়ির আরও অভিযোগ, ১৫ মে গভীর রাতে FIR দায়ের করা হয়। কিন্তু তার আগেই প্রভাব খাটিয়ে আগাম জামিনের ব্যবস্থা করে নেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক শাশুড়ি। আরও গুরুতর অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
তাঁদের দাবি, বয়স এবং সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে গিরিবালা সিং-কে আদালত আগাম জামিন দিলেও, তিনি নাকি জামিন পাওয়ার পরে আদালত চত্বরেই ৬১ বছরের নবনিধি শর্মাকে গুন্ডা দিয়ে হুমকি দিয়েছেন। মামলা না তুললে বা বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাঁদের মারধর করা হবে বলে শাসানি দিয়েছে সেই গুন্ডারা।