কাটমানি ফেরতের দাবিতে প্রধানের বাড়ি ঘেরাও কোচবিহারের মোয়ামারিতে - 24 Ghanta Bangla News
Home

কাটমানি ফেরতের দাবিতে প্রধানের বাড়ি ঘেরাও কোচবিহারের মোয়ামারিতে

Spread the love

কোচবিহার: কোচবিহারের মোয়ামারি গ্রামে আবাস যোজনার টাকা থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়াল এলাকায় (Cooch Behar)। অভিযোগ তুলে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান …

কোচবিহার: কোচবিহারের মোয়ামারি গ্রামে আবাস যোজনার টাকা থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়াল এলাকায় (Cooch Behar)। অভিযোগ তুলে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক গ্রামবাসী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয় চরম উত্তেজনা, পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোচবিহার জেলার ১ নম্বর ব্লকের মোয়ামারি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই আবাস যোজনার সুবিধাভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ জমছিল। অভিযোগ, প্রকল্পের টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকার পরও স্থানীয় স্তরে একাংশ সুবিধাভোগীর কাছ থেকে ‘কাটমানি’ হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়েছে। এদিন সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ ফেটে পড়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে।

আরও দেখুনঃ ১০ দিনে তৃণমূলের ৬ উইকেট নিয়ে রেকর্ড বাংলার ডবল ইঞ্জিনের

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ঘরপিছু ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। কারও কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের অভিযোগ, গরিব মানুষের আবাসনের জন্য বরাদ্দ টাকা থেকেও এইভাবে অর্থ নেওয়া অত্যন্ত অন্যায় এবং দুর্নীতির স্পষ্ট উদাহরণ।

একজন বিক্ষোভকারী বলেন, “আমাদের ঘর বানানোর টাকা থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। এখন সেই টাকা ফেরত চাই। না দিলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।” আরও অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকার করলে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা থেকে নাম বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হত বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।

ঘটনার দিন সকাল থেকেই মোয়ামারি অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে বহু মানুষ জড়ো হয়ে প্রধানের বাড়ির সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি ক্রমেই অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে পঞ্চায়েত প্রধান রীনা দাসের বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

যদিও অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চর্চা। বিরোধীদের দাবি, গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাবের কারণেই এমন অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। অন্যদিকে শাসক শিবিরের একাংশের বক্তব্য, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও সমাধান না হলে গ্রামে আরও উত্তেজনা বাড়তে পারে। এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে কীভাবে এই কাটমানি অভিযোগের তদন্ত এগোয় এবং সত্যিই কোথাও দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে আসে কি না।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *