মমতার চালু করা পুরোহিত-ইমাম ভাতা বন্ধ, খারিজ ওবিসি তালিকাও - 24 Ghanta Bangla News
Home

মমতার চালু করা পুরোহিত-ইমাম ভাতা বন্ধ, খারিজ ওবিসি তালিকাও

Spread the love

এই সময়: বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাজ্যে চালু থাকা ইমাম-মোয়াজ্জেন এবং পুরোহিত ভাতা। সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পরে নারী-শিশু উন্নয়ন ও সমাজ কল্যাণ তথা পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, আগামী মাস থেকে এরা কোনও ভাতা পাবেন না। এর ফলে সব মিলিয়ে ১ লক্ষের বেশি মানুষের মাসিক ভাতা জুন মাস থেকে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে ভাতা বন্ধ হলেও মাদ্রাসার বৃত্তি বন্ধ হবে না।

এ দিনের বৈঠকে মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০১১–র পরে যাঁরা অন্যান্য অনগ্রসর (ওবিসি) শ্রেণিভুক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের সেই কাস্ট স্টেটাস বা জাতিগত পরিচিতি বাতিল হয়ে গেল। এই ঘোষণার ফলে আতঙ্কে পড়ে গিয়েছেন অনেকেই। কারণ, অগ্নিমিত্রা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা হাইকোর্টের নির্দেশকেই মান্যতা দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে ওই সংরক্ষণের সুবাদে যাঁরা চাকরিতে জয়েন করেছেন বা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের কী হবে? মন্ত্রী জানিয়েছেন, ধর্মের ভিত্তিতে বহাল থাকা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের প্রকল্প বন্ধে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দু’টি বিষয়ে খুব শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি জারি করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এ দিন বিকেলে ভবানীপুরে দলীয় সভায় শুভেন্দু বলেন, ‘ইমাম–মোয়াজ্জেন–পুরোহিতদের ভাতা দেওয়া কি সরকারের কাজ? নাকি শিক্ষার উন্নতি করা এবং চাকরি দেওয়া? আজ ক্যাবিনেট সব ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে। সব সম্প্রদায়ে মেধাবী ছাত্র রয়েছে, তাদের সঙ্গে ভেদাভেদ করা হবে না। যে টাকা এতদিন ভাতা দিতে খরচ হতো, তা আমাদের ঘরের ছেলেরা পাবে। সে হিন্দু, শিখ, মুসলিম,খৃস্টান জৈন, পার্সি, বৌদ্ধ হতে পারে, তাতে কোনও সমস্যা নেই।

আগের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ইমাম–মোয়াজ্জেনদের ভাতা চালু করার পরেই হইচই শুরু হয়। ২০১২–তে ধর্মের ভিত্তিতে ভাতা চালু করা নিয়ে সেই সময়ে তোষণের অভিযোগ ওঠে। পরে মামলাও হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সেই ভাতা বন্ধের নির্দেশ দেয় কোর্ট। তবে রাজ্য সরকার বন্ধ না করে, মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরে মাধ্যমে সেই ভাতা চালিয়ে যায়। রাজ্য ওই দপ্তরকে উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন খাতে অর্থ দিলে সেই টাকা থেকে ভাতার অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। তোষণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পরে ২০২০-তে চালু করা হয় পুরোহিতদের জন্য ভাতা। ইমামরা প্রতি মাসে ভাতা হিসেবে ৩০০০ টাকা পান। মোয়াজ্জেনরা পান ২০০০ টাকা। পুরোহিতদেরও একই অঙ্কের ভাতা দেওয়া শুরু হয়।

নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে মোট ভাতা প্রাপক ইমামের সংখ্যা ৪১ হাজার ২০৫। ভাতা পান ৩৯ হাজার ২৮ জন মোয়াজ্জেন। আর ২৯ হাজার ১৭৮ জন পুরোহিতকে ভাতার টাকা দেওয়া হয়। ইমামদের জন্য প্রতি মাসে ওয়াকফ বোর্ডের খরচ হয় ১২ কোটি ৩৬ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা। মোয়াজ্জেন ভাতা বাবদ মাসপ্রতি খরচ হয় ৭ কোটি ৮০ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা। পুরোহিতদের ভাতা বাবদ ৫ কোটি ৮৩ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা খরচ হয় তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর থেকে। মন্ত্রিসভার এ দিনের সিদ্ধান্তে সকলের ভাতা বন্ধ হয়ে গেল।

এই প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া ইমাম-মোয়াজ্জেন অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সংস্থার রাজ্য সম্পাদক আব্দুর রজ্জাক বলেন, ‘ইমাম ভাতা বলে আমাদের কোনও ভাতা দেওয়া হতো না। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প যেমন— টিকাকরণ থেকে বাল্যবিবাহ রোধ, স্কুল ছুট থেকে পরিবার পরিকল্পনা-সহ বিভিন্ন ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার জন্য টাকা দেওয়া হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘মসজিদের প্রকৃতি অনুযায়ী ইমাম ও মোয়াজ্জেন পিছু ৫ থেকে ১৫ হাজার বেতন দেওয়া হয়। ভাতা চালু হওয়ার পর সেই টাকার অঙ্ক কেটে নিয়ে বেতন দিতেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। এখন ভাতা বন্ধ হয়ে গেলে মসজিদ কর্তৃপক্ষ পুরো বেতন দেবেন। ফলে ভাতা বন্ধ হলেও আমাদের আর্থিক ক্ষতি হবে না।’

এ দিনের মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ২০১১–র পরে তৃণমূল সরকার যাঁদের ওবিসি তালিকাভুক্ত করেছে, সে সবই বাতিল করা হলো। ২০২৪-এ এই সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টও নতুন তালিকাভুক্তদের ওবিসি স্টেটাস বাতিল করে। পরে তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত করে দেয়। বর্তমান সরকার গঠিত হওয়ার পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেয় রাজ্য। এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘হাই কোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে নতুন ওবিসি তালিকা বাতিল করে দেওয়া হলো।’

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, তার মানে এটাই দাঁড়াল যে ১৯৯৩-২০১০ পর্যন্ত যে ৬৬টি জাতিকে ওবিসি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, এখন কেবল সেগুলিই রইল। আগের সরকার ওবিসি-দের যে ‘এ’ এবং ‘বি’ ক্যাটিগরি তৈরি করেছিল, তারও আর কোনও অস্তিত্ব থাকল না। নতুন নিয়মে তৃণমূল সরকার ‘এ’ এবং ‘বি’ ক্যাটিগরির জন্য যথাক্রমে ১০ এবং ৭ শতাংশ সংরক্ষণ করেছিল। কিন্তু তাঁদের সব সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ার ফলে ওবিসি-দের জন্য কেবল আগের ৭ শতাংশ সংরক্ষণই বিবেচিত হবে। অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার আদালতের নির্দেশ মেনে নতুন করে বিষয়টির পর্যালোচনা করবে। তার ভিত্তিতে তৈরি হবে নতুন ওবিসি তালিকা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *