ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরে ফের ভারত আসছেন পুতিন
নয়াদিল্লি: বিশ্ব রাজনীতির নজর এবার ভারতের দিকে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের মাটিতে বসতে চলেছে ১৮তম ‘ব্রিকস’ (BRICS Summit 2026) শীর্ষ সম্মেলন। আর সেই হাই-ভোল্টেজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে যোগ দিতে …
নয়াদিল্লি: বিশ্ব রাজনীতির নজর এবার ভারতের দিকে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের মাটিতে বসতে চলেছে ১৮তম ‘ব্রিকস’ (BRICS Summit 2026) শীর্ষ সম্মেলন। আর সেই হাই-ভোল্টেজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে যোগ দিতে নয়াদিল্লি আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার ক্রেমলিনের বিশেষ উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ পুতিনের এই ভারত সফরের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। (Vladimir Putin to visit India for BRICS Summit)
আগামী ১২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন দিল্লিতে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এক বছরের মধ্যে এটি পুতিনের দ্বিতীয় ভারত সফর হতে চলেছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি এসেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার বিষয়ে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছিল।
চলতি ২০২৬ সালে ব্রিকস রাষ্ট্রজোটের সভাপতিত্ব বা চেয়ারম্যানশিপ রয়েছে ভারতের হাতে। আর সেই কারণেই বছরজুড়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ব্রিকস প্রেসিডেন্সির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়েই নতুন দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের মেগা বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দেখা করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের মতো একাধিক বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।
উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত ‘ব্রিকস’ জোটে সম্প্রতি মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) যোগ দেওয়ায় এর আন্তর্জাতিক শক্তি বহুগুণ বেড়েছে।
পাশ্চাত্যের দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও, নয়া দিল্লির বিদেশনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ কিন্তু মস্কো-ই। আকাশ সুরক্ষায় আধুনিক ‘S-400 ট্রায়াম্ফ’ কিংবা যৌথভাবে তৈরি ‘ব্রাহ্মস’ সুপারসনিক মিসাইলের মতো ফ্রন্টলাইন সমরাস্ত্রের জন্য ভারত রাশিয়ার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। পাশাপাশি, ইউক্রেন যুদ্ধের পর সস্তায় রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়িয়ে ভারত নিজের ঘরোয়া বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতি যখন ক্রমশ মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে, তখন মোদী-পুতিনের এই আসন্ন বৈঠক ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।