বেআইনি ও অবৈজ্ঞানিক ভাবে বালি খনন: সতর্ক করল রাষ্ট্রপুঞ্জ - 24 Ghanta Bangla News
Home

বেআইনি ও অবৈজ্ঞানিক ভাবে বালি খনন: সতর্ক করল রাষ্ট্রপুঞ্জ

Spread the love

এই সময়: ভারতের বালি মাফিয়াদের কীর্তিকলাপ নজর কেড়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জেরও। এঁদের জন্য ভারতের ভূস্তরের ভয়ঙ্কর ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে আন্তর্জাতিক স্তর থেকে সতর্ক করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে।

১৯৭০ থেকে ২০২০ — পাঁচ দশকে বিশ্বজুড়ে বালির চাহিদা বেড়েছে পাঁচ গুণ। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাতের দশকের গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক স্তরে বালির চাহিদা ছিল বছরে প্রায় ৯৬০ কোটি টন। ২০২০–র পরে সেটাই বছরে পাঁচ হাজার কোটি টনে পৌঁছেছে (বছরে গড়ে ৩.২ শতাংশ বৃদ্ধি)। সেখানে এটাও জানানো হয়েছে যে, বছরে বিভিন্ন নদীগর্ভ থেকে অন্তত ১৫০ কোটি টন বালি খনন করে ভারত। সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এতখানি বালি তোলার ফলে দেশের ভূমিস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গত ১২ মে ‘স্যান্ড অ্যান্ড সাস্টেনিবিলিটি: অ্যান এসেনশিয়াল রিসোর্স ফর নেচার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নামে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউনেপ)। অতি দ্রুত নগরায়নের জেরে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকেই বালি খোঁড়ায় পরিবেশ ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে ভূ–বিজ্ঞানীরা জানান। বালি খননের নিরিখে গোটা দুনিয়ায় চিনের পরেই ভারত। হিসেব অনুযায়ী, ভারত বছরে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন টন বালি খনন করে, যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই হার বজায় থাকলে ২০৩৪–এ এ দেশে খনন করা বালি ১.৯ বিলিয়ন টনের কাছাকাছি পৌঁছবে।

বালি ও নুড়িপাথরের বিশ্বব্যাপী চাহিদা বাড়ার অন্যতম প্রধান চারটি কারণ হলো — জনসংখ্যা বৃদ্ধি, গ্রামাঞ্চল থেকে শহরমুখী জনস্রোত, পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন। যে কারণে নির্মাণকাজে বিরাম নেই, ফলে ঊর্ধ্বমুখী বালির চাহিদাও। ১৯৫০–এ মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ শহরে থাকলেও ২০২৫–এ বিশ্বের প্রায় ৪৫ শতাংশই শহরাঞ্চলের বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার বালি তুলে তাকে কংক্রিট, অ্যাসফল্ট, কাচ বা অন্যান্য উপাদানে রূপান্তরিত করা হলে, তা কার্যত প্রাকৃতিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যায়। একে ‘ডেড স্যান্ড’ বলা হয়। আর, নদী, ব–দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলে যে বালি থেকে যায়, সেটা হলো ‘অ্যালাইভ স্যান্ড’। এই বালি ভূস্তরের স্থিতিশীলতা, বাস্তুতান্ত্রিক কাজকর্ম বজায়ের পাশাপাশি জল পরিশোধন, নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষয় ও ঝড়ের জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূল রক্ষা, উপকূলীয় ভূগর্ভস্থ জলে লবণাক্ত ভাব ঠেকানো এবং জীববৈচিত্রকে টিকিয়ে রাখে।

ভারতে প্রতি বছর যত বালি তোলা হয়, তার বড় অংশই গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র–মেঘনা অববাহিকার। ফলে ওই বিরাট এলাকায় ভূস্তরের ভারসাম্য খুব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে কেন্দ্রকে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। তারা জানিয়েছে — নদী, উপকূল ও সামুদ্রিক পরিবেশে প্রভাব ফেলছে নিয়ন্ত্রণহীন বালি খনন। এর জেরে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বদলাচ্ছে, সৈকত ও নদীতীরের ক্ষয় হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাচ্ছে এবং জলজ প্রাণীর বাসস্থান ধ্বংস হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় আবার বন্যা, ঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ছে। এ সবের তোয়াক্কা না করে বহু অসাধু ব্যবসায়ী বেআইনি ও অবৈজ্ঞানিক ভাবে বালি খননের ‘ব্যবসা’ চালাচ্ছে বেশ ক’বছর ধরে। এঁদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশের সর্বনাশ হবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *