সিন্ডিকেট-তোলাবাজি রুখতে কড়া পদক্ষেপ! ৩-৪ বছরের অভিযোগের রেকর্ড চাইল রাজ্য সরকার - 24 Ghanta Bangla News
Home

সিন্ডিকেট-তোলাবাজি রুখতে কড়া পদক্ষেপ! ৩-৪ বছরের অভিযোগের রেকর্ড চাইল রাজ্য সরকার

Spread the love

রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি এবং তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে নতুন করে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। (syndicate extortion)প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অভিযোগগুলিকে খতিয়ে দেখতে …

রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি এবং তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে নতুন করে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। (syndicate extortion)প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অভিযোগগুলিকে খতিয়ে দেখতে এবার সমস্ত পুলিশ সুপার (SP) এবং পুলিশ কমিশনারদের (CP) কাছে গত ৩-৪ বছরের বিস্তারিত রেকর্ড তলব করা হয়েছে। বিশেষভাবে সেই সমস্ত অভিযোগের তথ্য চাওয়া হয়েছে, যেগুলি থানায় জমা পড়লেও কোনো কারণে এফআইআর (FIR) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি জেলা পুলিশ ও কমিশনারেট ইউনিটকে আগামীকাল, অর্থাৎ ১৯ মে ২০২৬ বিকেল ৪টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রিপোর্টে শুধুমাত্র অভিযোগের সংখ্যা নয়, অভিযোগের প্রকৃতি, প্রাথমিক অনুসন্ধানের অবস্থা এবং ইতিমধ্যে দায়ের হওয়া মামলার তথ্যও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। সমস্ত তথ্য পাঠাতে হবে রাজ্য অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর ডিআইজি-র কাছে।

আরও দেখুনঃ CGO কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে পৌঁছল সোনা পাপ্পু

প্রশাসনের এই তৎপরতার পেছনে সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় তথাকথিত সিন্ডিকেট অপারেটরদের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং রাজ্য পুলিশ। সোনা পাপ্পু ও জয় কামদারের মতো একাধিক নাম উঠে এসেছে তদন্তে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ ব্যবসা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প ঘিরে তোলাবাজির জাল বিস্তার করেছিল এই চক্রগুলি।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, তদন্তে পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও সিন্ডিকেট চক্রকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে শুধুমাত্র অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই নয়, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ভূমিকা নিয়েও এখন কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। সেই কারণেই পুরনো অভিযোগগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।

রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো “জিরো টলারেন্স” নীতি কার্যকর করা। অর্থাৎ, সিন্ডিকেট, কাটমানি কিংবা তোলাবাজির মতো সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে আর কোনো রকম শিথিলতা দেখানো হবে না। অতীতে যেসব অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি বা নথিভুক্ত হয়নি, সেগুলিও পুনরায় পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জও বটে। কারণ গত কয়েক বছরে জমা পড়া অভিযোগের প্রকৃত সংখ্যা এবং তার তদন্তের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করলে বহু অস্বস্তিকর তথ্য সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই পদক্ষেপ ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অসন্তোষের পর অবশেষে প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

এখন নজর আগামীকালের রিপোর্ট জমা দেওয়ার দিকে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা তদন্তের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে এই অভিযান কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *