গ্রেফতারির আশঙ্কা, রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির
কলকাতা: আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন। আর তার ঠিক আগেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে, এই আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ওই কেন্দ্রের …
কলকাতা: আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন। আর তার ঠিক আগেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে, এই আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ নেতা জাহাঙ্গির খান। সোমবার তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। এদিন দুপুর ২টোয় মামলাটির শুনানির কথা রয়েছে। (jahangir khan went to high court)
আদালত সূত্রে খবর, তৃণমূল প্রার্থী তাঁর আবেদনে অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ একাধিক মিথ্যে মামলা ও এফআইআর (FIR) রুজু করেছে। ভোটের ঠিক আগে তাঁকে চক্রান্ত করে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাই রাজ্য পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ঠিক কতগুলি মামলা দায়ের করেছে, আদালতের কাছে সেই তথ্য তলবের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জাহাঙ্গিরের এই তড়িঘড়ি আইনি পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে শনিবারের একটি রাজনৈতিক সভা। গত শনিবার ফলতায় প্রচারে গিয়ে জাহাঙ্গিরকে কড়া ভাষায় নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রকাশ্য সভা থেকে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘ভোট শেষ হোক। ওর ব্যবস্থা করব। সেই দায়িত্ব আমার।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পরই তৃণমূল প্রার্থীর আইনি রক্ষাকবচ খোঁজার চেষ্টাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গক্রমে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে জাহাঙ্গির খান বেশ পরিচিত ও দাপুটে নাম। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক হয়ে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ আইপিএস অজয়পাল শর্মা। যাঁর কড়া পুলিশি ভাবমূর্তির জন্য তাঁকে ‘সিংহম’ বলা হয়। সেই পুলিশকর্তার সঙ্গেও প্রচ্ছন্ন স্নায়ুযুদ্ধে জড়িয়েছিলেন জাহাঙ্গির। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেছিলেন, ‘‘উনি সিংহম হলেও আমিও পুষ্পা… ঝুঁকেগা নহি।’’
ভোটগ্রহণ পর্ব মেটার পর বিরোধীরা ফলতার একাধিক বুথে ব্যাপক সন্ত্রাস, রিগিং ও অশান্তির অভিযোগ তুলে সরব হয়। মূলত বিরোধীদের সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এলাকায় সন্ত্রাস, বুথ দখল এবং তোলাবাজি চলে মূলত জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বেই। তাঁর দাপটে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
যদিও যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ নস্যাৎ করেছেন তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার এলাকায় যে বিপুল উন্নয়ন করেছে, মানুষ তার নিরিখেই ভোট দেবেন। ডায়মন্ড হারবার লোকসভার প্রার্থীকে শুধুমাত্র ফলতা থেকেই দেড় লক্ষ ভোটের লিড দেওয়ার বিষয়েও চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী তিনি। তবে পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে হাই কোর্টে তাঁর এই মামলা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও একধাপ বৃদ্ধি পেল।