সুরক্ষায় জোর দিয়ে মউ আইআইটি-রেলের, বন্যপ্রাণের মৃত্যু কমার আশা
এই সময়: যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো এবং রেল ট্র্যাকের উপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালানোর লক্ষ্যে আইআইটি গুয়াহাটির সঙ্গে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল একটি মউ স্বাক্ষর করেছে। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, আধুনিক ইনার্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট (আইএমইউ) সেন্সর এবং জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারে নির্ভুল ভাবে রেললাইনের অবস্থা সম্পর্কে প্রতিনিয়ত তথ্য পাওয়া যাবে এই ব্যবস্থায়। একই সঙ্গে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে ট্র্যাকের কাছাকাছি একটা নির্দিষ্ট এলাকায় হাতি বা বাইসনের দল চলে এলে চালকের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়। এর ফলে ট্রেনের ধাক্কায় বন্যপ্রাণের মৃত্যুর ঘটনা অনেকটাই কমবে বলে রেল আশা করছে।
রেলের কর্তারা জানিয়েছেন, আইআইটি গুয়াহাটি-র বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে ট্র্যাকের উপর নজরদারি চালাতে সহজেই লোকোমোটিভ ও দূরপাল্লার ট্রেনের কোচে ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ অনবোর্ড ভাইব্রেশন আইএমইউ-জিপিএস ইভেন্ট ক্যামেরা সিস্টেম বসানো সম্ভব। তার জন্য রেকে বড় ধরনের কোনও পরিবর্তন করারও প্রয়োজন হবে না। রেলকর্তাদের বক্তব্য, রিয়েল টাইমে ট্র্যাকের কী অবস্থা, সেটা জানতে এই ব্যবস্থায় ইভেন্ট-ভিত্তিক ক্যামেরা প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে। ফলে, রেললাইনের ত্রুটি শনাক্ত করা ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। এতে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের গোটা রেল নেটওয়ার্কেই লাইনের ত্রুটির ধারাবাহিক ম্যাপিং করা সম্ভব হবে এবং সেই মতো তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তাও তৈরি করা যাবে। চলন্ত ট্রেনের চালককে জানিয়ে দেওয়া যাবে যে, সামনের একটা নির্দিষ্ট অংশে ট্রেন সর্বোচ্চ কতটা গতি বজায় রাখতে পারবে অথবা কোনও নির্দিষ্ট দূরত্ব পার হওয়ার পরে ট্রেন থামিয়ে দিতে হবে কি না।
রেল গোটা দেশের প্রতিটি জোনেই গড় গতি বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে। তবে ট্রেনকে শুধু জোরে চললেই হবে না, একই সঙ্গে যে ট্র্যাক ধরে ট্রেন চলবে, সেই ট্র্যাক যাতে ১০০ শতাংশ নিরাপদ থাকে, সে বিষয়টিও রেল নিশ্চিত করতে চাইছে।