'বাংলাকে কাশ্মীর হতে দেব না!' পার্কসার্কাসে বিস্ফোরক শুভেন্দু - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘বাংলাকে কাশ্মীর হতে দেব না!’ পার্কসার্কাসে বিস্ফোরক শুভেন্দু

Spread the love

Published: May 18, 2026 at 3:43 PM ·
Updated: May 18, 2026 at 3:43 PM ·
1 min read

কলকাতা: পার্ক সার্কাসে রবিবারের অশান্তির ঘটনার পর এবার কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “বাংলাকে কখনও কাশ্মীর হতে দেওয়া হবে না।” তাঁর বক্তব্য, এতদিন কিছু মানুষ ভেবেছিল প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে না, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং আইন মেনেই কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

রবিবার পার্ক সার্কাস এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙা এবং মসজিদের লাউডস্পিকার নিষেধাজ্ঞা ইস্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী এবং সিআরপিএফ জওয়ান আহত হন। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ধরনের ঘটনা এখন কাশ্মীরেও হয় না। কিন্তু বাংলায় কিছু মানুষ একটা শিথিল পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। তারা ভাবত সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে না। এখন পুলিশ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আইন অনুযায়ী কাজ করবে।”

আরও দেখুনঃ বনগাঁ সীমান্তের বাগদায় অবশেষে শুরু হল বেড়া দেওয়ার কাজ

তিনি আরও বলেন, অতীতে এমন সময় ছিল যখন পুলিশ আক্রান্ত হলেও প্রশাসনের শীর্ষস্তর কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকত। সেই পরিস্থিতির অবসান হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “এখন আর সেই দিন নেই যখন পুলিশ মার খাবে আর পুলিশমন্ত্রী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে সব দেখবেন। এখন থেকে বাংলায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বরদাস্ত করা হবে না।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পার্ক সার্কাসের ঘটনার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিক্ষোভের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। সেই পোস্ট কারা করেছিল এবং কীভাবে পরিকল্পনা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দু’দিকই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, আগে রাজনৈতিক চাপ এবং পক্ষপাতিত্বের কারণে পুলিশ অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারত না। তবে এখন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র আওতায় আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন। তিনি কলকাতা পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আগামী দিনে আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং লজিস্টিক সহায়তার মাধ্যমে কলকাতা পুলিশকে দেশের অন্যতম সেরা বাহিনীতে পরিণত করা হবে।

এদিন তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজ্যে থাকা ৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী যেন আপাতত সরানো না হয়। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি প্রয়োজন। না হলে পুলিশ বাহিনীর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছেও শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন। কিন্তু ধর্মের নামে উস্কানি, ইট ছোড়া বা পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

রাজনৈতিক মহলে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। শাসকদলের দাবি, সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইন নিজের পথেই চলবে এবং পার্ক সার্কাসে হিংসার ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *