মসজিদের মাইক খোলা বেআইনি! মত নাখোদার ইমামের
কলকাতা: মাইক ও লাউডস্পিকার ব্যবহারে কড়াকড়ি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে (Nakhoda Masjid)। এই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন নাখোদা মসজিদের ইমাম মৌলানা মহম্মদ শফিক কাসমি। রাজ্যে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারই প্রেক্ষিতে ইমাম কাসমি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শব্দ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এই নিয়ম কোনও বিজেপি সরকারের তৈরি নয়, বরং এটি দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্ধারিত আইন। তিনি আরও বলেন শব্দ দূষণ রোধে আওয়াজ কম হতে পারে কিন্তু মাইক খুলে নেওয়া বেআইনি।
মৌলানা মহম্মদ শফিক কাসমি বলেন, “এই নিয়ম বিজেপি সরকার তৈরি করেনি। এটি পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের আইন। আইন অনুযায়ী কোথাও মাইক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ নেই। সুপ্রিম কোর্ট বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদও এমন কোনও নির্দেশ দেয়নি।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকার জন্য নির্দিষ্ট ডেসিবেল সীমা ঠিক করা রয়েছে এবং সেই সীমার মধ্যেই মাইক ব্যবহার করা আইনসম্মত।
আরও দেখুনঃ ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন! কল্যাণীতে রনংদেহী মহিলারাই ভাঙলেন মদের ঠেক
তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলে ৭৫ থেকে ৮০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ থেকে ৭৫ ডেসিবেল এবং আবাসিক এলাকায় ৬৫ থেকে ৭০ ডেসিবেলের মধ্যে শব্দসীমা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। অন্যদিকে সাইলেন্স জোনে শব্দসীমা ৪০ থেকে ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে বলে আইন বলছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ সরাসরি মাইক খুলে ফেলতে বলছে, যা আইনসঙ্গত নয়।
ইমাম কাসমি বলেন, “পুলিশের উচিত আইনের ভিত্তিতে কাজ করা। আমরাও আইন মেনেই চলব।” তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আজান, রাজনৈতিক সভা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে মাইক ব্যবহারের বিষয়টি বহুদিন ধরেই সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে মাইক ও লাউডস্পিকার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আদালত ও প্রশাসনের তরফে একাধিক নির্দেশিকা জারি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি আবার রাজনৈতিক মাত্রা পেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে শব্দসীমা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ছে।
একাংশের মতে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হলেও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সব সম্প্রদায় ও সব সংগঠনের জন্য সমান নীতি থাকা উচিত। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা চলছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, অতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়ছে, তাই নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। আবার কেউ মনে করছেন, আইন মেনে ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে মাইক ব্যবহার করা কোনও অপরাধ নয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের পরিবেশ আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে সেই আইন কার্যকর করার সময় প্রশাসনকে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। তা না হলে অযথা বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
