Baishakhi Banerjee allegations: ‘মেয়েকে খুনের পরিকল্পনা হয়েছিল, অ্যাসিড অ্যাটাক হত আমার ওপর’, দলের ‘হাকিম-বিশ্বাস’দের ‘পৈশাচিক চেহারা’ কথা বললেন বৈশাখী | Baishakhi Banerjee Explosive Allegations Against TMC After Bengal Poll Defeat
বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: দম্ভই তৃণমূলের হারের কারণ। ভোটের কিছুদিন আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েও ‘নিষ্ক্রিয়’ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় এবার দল। TV9 বাংলাকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে করলেন বিস্ফোরক অভিযোগ। তাঁর মেয়েকে নাকি খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কেবল মেয়েকেই নয়, অ্যাসিড ছোড়ার প্ল্যান ছিল তাঁর মুখেও। আর এর নেপথ্যে নাকি তৃণমূলের কেউ ছিলেন। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তিনি।
‘মেয়েকে খুন ও মুখে অ্যাসিড ছোড়ার চক্রান্ত’
২০১৭ সালের আগস্ট মাসের এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা সাক্ষাৎকারে বলেন বৈশাখী। তাঁর দাবি, তিনি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক রাতে খেতে গিয়ে তিনি একটি উড়ো মেসেজ পান। যেখানে পরিষ্কার লেখা ছিল— তাঁর এবং তাঁর মেয়ের জীবনের বড়সড় ঝুঁকি রয়েছে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ” আমি শোভনের সঙ্গে খেতে গিয়েছিলাম। তখন আমার ফোনে আননোন নম্বর থেকে একটি মেসেজ আসে। আমি মেসেজটি পেয়ে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কে? তখন ওপাশ থেকে জানানো হয়, ‘আমি আপনার একজন নারী নিরাপত্তারক্ষীর স্বামী। আমার স্ত্রীকে মোটা টাকা দেওয়া হয়েছে আপনার মেয়েকে খুন করার জন্য এবং আপনার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারার জন্য।’ শুধু তাই নয়, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভুয়ো ধর্ষণের মামলা দায়ের করার জন্যও টাকা দেওয়া হয়েছিল।”
এই চক্রান্তের নেপথ্যে তৃণমূলেরই এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন বলে দাবি করেছেন বৈশাখী।
ফিগমেন্ট অফ ইমাজিনেশন’ তত্ত্ব
মেয়ের জীবন সংশয়ের কথা জানতে পেরে তড়িঘড়ি তদানীন্তন সিপি-র দ্বারস্থ হয়েছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এফআইআর (FIR) দায়ের করার পর ১৪ অগস্ট অভিযুক্ত যুবককে বৈশাখীদের বাড়িতেই ডেকে পাঠানো হয়।
বৈশাখীর দাবি,এক আইপিএস (IPS) অফিসারের সামনেই ওই যুবক স্বীকার করে, ঠিক কত টাকা এবং কতগুলি কিস্তিতে (Installments) এই চক্রান্তের জন্য দেওয়া হয়েছিল।বৈশাখীর অভিযোগ, এত বড় স্বীকারোক্তির পরও পুলিশ কোনও কার্যকর পদক্ষেপ বা জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।
মহিলা কমিশনে চিঠি
পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা দেখে তিনি জাতীয় মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হন। কিন্তু তৎকালীন এক আইপিএস অফিসার পুরো ঘটনাটিকে ‘ফিগমেন্ট অফ ইমাজিনেশন’ বা ‘কাল্পনিক গল্প’ বলে উড়িয়ে দিয়ে রিপোর্ট জমা দেন।
বর্তমানে বেশ কিছু আইপিএস অফিসারের সাসপেন্ড হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বৈশাখী জানান, তিনি সেই সময়কার বয়ানের ভিডিয়ো কপি আবারও কমিশনের কাছে জমা দেবেন।
‘দলের দম্ভই হারের কারণ’
তৃণমূলের সাম্প্রতিক ফলাফল বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতাদের অহংকার ও দম্ভকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর মতে, ক্ষমতার দম্ভের কারণেই আজ মানুষকে এই পরিণতি দেখতে হচ্ছে।
‘দলে আরও অনেক পার্থ-হাকিম রয়েছেন’
কারও নাম না করে এবং কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করে বৈশাখী বলেন, দলে কেবল একজন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন না। তাঁর কথায়, “দলের মধ্যে কি আর কোনও পার্থ নেই? অনেক চট্টোপাধ্যায়, অনেক মুখার্জি, অনেক বিশ্বাস, অনেক হাকিমরা রয়েছেন। তাঁদের পৈশাচিক চেহারা মানুষ খুব ভালো করেই চেনেন।”
ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি আক্রমণ
কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি নিশানা করে বৈশাখী বলেন, “যে ফিরহাদ হাকিম আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, কলেজ থেকে ‘উখাড়কে ফেক দেঙ্গে’ (উপড়ে ফেলে দেব), আজ তাঁর দলকেই মানুষ অনেক জায়গায় উপড়ে ফেলেছে।”
বৈশাখী বিশ্বাস করেন, এতদিন তিনি তাঁর পরিচয়টাই আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলছিলেন। এখন তিনি মুক্ত নিঃশ্বাস নিতে পারবেন বলে আশাবাদী।