দীর্ঘদিনের কাটমানি! আমতায় তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত নেতার বাড়ি ভাংচুর করল ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী
আমতা: গ্রাম পঞ্চায়েত নেতার বাড়িতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের হামলা। (Amta)চাঁদা দুর্নীতির আগুনে জ্বলছে হাওড়ার আমতা থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা, বিশেষ করে …
আমতা: গ্রাম পঞ্চায়েত নেতার বাড়িতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের হামলা। (Amta)চাঁদা দুর্নীতির আগুনে জ্বলছে হাওড়ার আমতা থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা, বিশেষ করে মহিলারা, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের এক নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। অভিযোগ, ওই নেতা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং ১০০ দিনের কাজের কার্ডের জন্য ৪ হাজার টাকা করে ‘কাটমানি’ নিতেন।
দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ অবশেষে বিস্ফোরণ ঘটেছে।মহিলারা সবার আগে এগিয়ে আসেন। তাঁরা দল বেঁধে নেতার বাড়িতে ঢুকে ঘরের ভিতরে থাকা এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পঞ্চায়েত নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনও কোনো গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় চলা সরকারি প্রকল্পের টাকা লুটের একটি বৃহত্তর চিত্র তুলে ধরেছে। আবাস যোজনা, মনরেগা (১০০ দিনের কাজ), কৃষকমান্ন, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রায় প্রতিটি স্কিমেই মধ্যস্থতাকারীদের ‘কমিশন’ নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠছে।
গ্রামবাসীরা বলছেন, “সরকার টাকা দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। মাঝখান থেকে নেতা-কর্মীরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে।”রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা একসময় নেপাল-বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি ভারতে চেয়েছিলেন। আজ সেই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। গ্রামে গ্রামে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।” তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অবশ্য এই ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।