মোহনবাগানকে টেক্কা দিয়ে CAB প্রথম ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন টাউন ক্লাব - 24 Ghanta Bangla News
Home

মোহনবাগানকে টেক্কা দিয়ে CAB প্রথম ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন টাউন ক্লাব

Spread the love

প্রথম ইনিংসের লিডের ভিত্তিতে সিএবি প্রথম ডিভিশনের শিরোপা জিতল টাউন ক্লাব। ফাইনালে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ব্যাটে-বলে দাপট দেখাল তারা।

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: সিএবি প্রথম ডিভিশন চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল টাউন ক্লাব। শনিবার সল্টলেকের জেইউ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস মাঠে ফাইনালে মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবকে টেক্কা দিয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই খেতাব নিজেদের করে নেয় তারা। পাঁচ দিনের টানটান লড়াই শেষে ম্যাচ অমীমাংসিত থাকলেও প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড নেওয়ার সুবাদে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় টাউন ক্লাবকে।

ফাইনালের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলতে দেখা যায় টাউন ক্লাবকে। প্রথম ইনিংসে তারা তোলে ৪০৩ রান। দলের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা ছিলেন অঙ্কুর পাল। ধৈর্য, সংযম এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার মিশেলে তিনি ১৮৭ বলে ১৩৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকেই আসে একাধিক দৃষ্টিনন্দন শট। অন্যদিকে ঐশিক প্যাটেল দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে দলের ভিত আরও মজবুত করেন। তিনি ২১৮ বলে ৮৯ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এই দুই ব্যাটসম্যানের জুটির উপর ভর করেই বড় স্কোর গড়ে টাউন ক্লাব।

যদিও মোহনবাগানের বোলাররা লড়াই চালিয়ে যান। বিশেষ করে আমির গনি নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তবে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় টাউন ক্লাবকে বড় রানের দিকে এগিয়ে যাওয়া থেকে আটকানো যায়নি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে মোহনবাগানও হাল ছাড়েনি। দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেন বিবেক সিং। তিনি ১২২ বলে ৭৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। এছাড়া শাকির হাবিব গান্ধিও অর্ধশতরান করে দলের লড়াইকে জিইয়ে রাখেন। কিন্তু টাউন ক্লাবের বোলারদের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে বড় রান গড়া সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দীপাংশ চৌহান অসাধারণ বোলিং করেন। তিনি পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে মোহনবাগানের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন। এছাড়া রাহুল প্রসাদও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত মোহনবাগানের ইনিংস শেষ হয় ৩৫৩ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে মূল্যবান লিড পেয়ে যায় টাউন ক্লাব।

দ্বিতীয় ইনিংসে আরও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে টাউন ক্লাব। পঞ্চম ও শেষ দিনে তারা ৫ উইকেটে ২৬২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এরপর হাতে সময় কম থাকায় আর ফল বের করা সম্ভব হয়নি। ম্যাচ ড্র হলেও প্রথম ইনিংসের লিডের ভিত্তিতে চ্যাম্পিয়নের খেতাব যায় টাউন ক্লাবের ঝুলিতে।

পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলেছে টাউন ক্লাব। ফাইনালেও ব্যাটিং ও বোলিং— দুই বিভাগেই তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। চাপে মাথা ঠান্ডা রেখে যেভাবে দল খেলেছে, তা প্রশংসা কুড়িয়েছে ক্রিকেটমহলে।

ম্যান অফ দ্য ম্যাচ সূর্য যাদব ফাইনালে দলের অন্যতম বড় শক্তি ছিলেন। ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব নিয়ে খেলেছেন তিনি। শুধু রান নয়, মাঠে তাঁর উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। চাপের মুহূর্তে সতীর্থদের উৎসাহ দেওয়া এবং সঠিক পরিকল্পনা মেনে খেলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। বড় ম্যাচে ধৈর্য ধরে খেলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার। তাঁর অলরাউন্ড মানসিকতাই টাউন ক্লাবকে ফাইনালে বাড়তি সুবিধা এনে দেয়।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *