তৃণমূলীকরণ নয় পদ্মের, বার্তা বনসলের
এই সময়: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই শমীক ভট্টাচার্যরা সতর্ক ভাবে পা ফেলতে চাইছেন, যাতে কোনও ভাবেই বিজেপির তৃণমূলীকরণ না হয়। ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে একাধিকবার শমীককে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘তৃণমূলের পথে আমরা হাঁটব না। আমরা তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করব না। অটো–টোটো ইউনিয়ন থেকে তৃণমূলের ঝান্ডা সরিয়ে বিজেপির ঝান্ডা ওড়ানো আমাদের লক্ষ্য নয়। এটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়।’ শুক্রবার কলকাতায় এসে শমীকের এই বক্তব্যেই সিলমোহর লাগালেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল।
সূত্রের খবর, রাজ্য এবং জেলা পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বনসল স্পষ্ট বলেন, ‘অন্তত আগামী তিন মাস অন্য দল থেকে কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না। তৃণমূলের কেউ বিজেপির ঝান্ডা হাতে নিয়ে নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা করলে সেটা আমাদেরই রুখতে হবে।’ সল্টলেক সেক্টর ফাইভে এ দিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় নতুন কোর কমিটি তৈরি হবে। এর পাশাপাশি এ বারের বিধানসভা ভোটের অভিজ্ঞতা কেমন, সেটা একেবারে নিচুতলার কর্মীদের কাছ থেকে শুনতে চাইছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এ দিনের বৈঠকে বনসল রাজ্য নেতাদের জানিয়েছেন, বাংলায় সরকার তৈরির পরে নিচুতলার কর্মীদের উপলব্ধি এবং পরামর্শ সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
এ দিনই বিধানসভায় দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে একদফা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, সেখানে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি কী ভাবে দ্রুত বাংলায় চালু করা যায়, তা নিয়ে তৎপর হতে বলা হয়েছে বিজেপি বিধায়কদের। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিধায়কদের কাজ করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির এক বিধায়কের কথায়, ‘আমাদের একটাই লক্ষ্য— বাংলায় আইনের শাসন কায়েম করা এবং উন্নয়নে নজর দেওয়া। এর জন্য দরকার রাজ্য প্রশাসন, পার্টি এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়। সেটাই যাতে নিপুণ ভাবে হয়, মুখ্যমন্ত্রী সেই বার্তাই বিধায়কদের দিয়েছেন। এবং একই বার্তা এ দিন সুনীল বনসলও দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক নেতাদের।’