Additional Excise Duty on Petroleum: পেট্রোল-ডিজেলের দাম কি আরও বাড়বে? পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিতে অতিরিক্ত শুল্ক বসল আজ থেকে | Government Imposes Additional Export Excise Duty On Petroleum Products, Will Petrol Diesel Prices Rise?
নয়া দিল্লি: দাম বেড়েছে পেট্রোল-ডিজেলের (Petrol-Diesel Price Hike)। এবার কেন্দ্রের আরও এক বড় পদক্ষেপ। অর্থ মন্ত্রকের তরফে নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানানো হল যে পেট্রোলিয়াম পণ্যের রফতানিতে স্পেশাল অ্যাডিশনাল এক্সাইজ ডিউটি (SAED) বা অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক বসানো হচ্ছে। পেট্রোলের উপরে লিটার প্রতি তিন টাকা, ডিজেলে লিটার প্রতি ১৬.৫ টাকা শুল্ক বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি এভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল (Aviation Turbine Fuel) বা এটিএফের দামও লিটার প্রতি ১৬ টাকা করে আবগারি শুল্ক বসানো হয়েছে। আজ, ১৬ মে থেকেই কার্যকর হবে এই নতুন শুল্ক। এই শুল্কের কারণে কি ফের জ্বালানির দাম বাড়বে?
উত্তরটা হল ‘না’। পেট্রোল-ডিজেলের উপরে আভ্যন্তরীণ আবগারি শুল্ক বা ডোমেস্টিক এক্সাইজ ডিউটির অর্থ হল দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দামে কোনও প্রভাব পড়বে না। বরং কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে পেট্রোলিয়াম পণ্যের রফতানি থেকে সরকারের আয় আরও বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে। ভারতীয় গ্রাহকদের উপরে মূল্যবৃদ্ধির কোপ পড়বে না।
Govt levies Special Additional Excise Duty of Rs 3 per litre (SAED- Rs 3; RIC- Nil) on exports of petrol, Rs 16.5 per litre (SAED – Rs 16.5; RIC – Nil) on exports of diesel and Rs 16 per litre (SAED only) on exports of ATF.
There is no change in the existing excise duty rates on… pic.twitter.com/5vIZ2bCItW
— ANI (@ANI) May 15, 2026
বর্তমানে ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ, বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার সঙ্কটকালে প্রতি ১৫ দিন অন্তরই রফতানি শুল্ক পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে গত ২৭ মার্চ শুল্ক বসানো হয়েছিল। আবার ১ মে এটিএফ ও ডিজেলের উপরে শুল্ক কমানো হয়েছিল দেশের অন্দরে সরবরাহ বজায় রাখার লক্ষ্যে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক পরিবর্তনের ফলে, বিশেষ করে পেট্রোল রফতানির উপর সামান্য কর আরোপের কারণে (যেখানে আগে কোনও শুল্ক ছিল না), রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মতো রফতানি নির্ভর তেল শোধনকারী সংস্থাগুলির লাভের মার্জিন কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে, যেসব সরকারি তেল বিপণন সংস্থার মূল জোর দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে, তাদের উপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পড়তে পারে।
সরকারের এই নীতির মূল লক্ষ্য হল দেশের সাধারণ গ্রাহকদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই কারণে রফতানিকে তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক করে তোলা হচ্ছে। সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, SAED-এর মতো নমনীয় নীতিগত ব্যবস্থা কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারের ওঠানামার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করে, যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দামের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
ভারতে জ্বালানির দাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ পরিবহন খরচ সরাসরি কৃষি, উৎপাদন, খুচরো ব্যবসা এবং পরিষেবা-সহ প্রায় সব ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করে। অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তে থাকলে, দেশে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে এবং আমদানি খরচও বেড়ে যেতে পারে। সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রভাব সবচেয়ে দ্রুত চোখে পড়ে। জ্বালানির দাম বাড়লেই ধীরে ধীরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের খরচও বেড়ে যায়, ফলে সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পায়।