সীমান্ত সুরক্ষায় আশার আলো! শুভেন্দুর নির্দেশে স্বেচ্ছায় জমি দিচ্ছেন কৃষকরা
মুর্শিদাবাদ: পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তে অবশেষে সুরক্ষা ব্যবস্থায় সত্যিকারের অগ্রগতি শুরু হয়েছে (Murshidabad)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর সীমান্তবর্তী কৃষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জমি জরিপে সহযোগিতা করছেন এবং বর্ডার ফেন্সিংয়ের জন্য জমি …
মুর্শিদাবাদ: পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তে অবশেষে সুরক্ষা ব্যবস্থায় সত্যিকারের অগ্রগতি শুরু হয়েছে (Murshidabad)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর সীমান্তবর্তী কৃষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জমি জরিপে সহযোগিতা করছেন এবং বর্ডার ফেন্সিংয়ের জন্য জমি দিতে এগিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সীমান্তে নিরাপত্তার নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।গত কয়েক বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ প্রায় আটকে পড়েছিল।
কেন্দ্রীয় সরকার ১২৭ কিলোমিটার জমির জন্য ক্ষতিপূরণ দিলেও রাজ্য সরকার মাত্র ৮ কিলোমিটার জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে হস্তান্তর করতে পেরেছিল। কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত এই বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ফলে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মাদক পাচার ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছিল। স্থানীয় কৃষকরা দিনরাত আতঙ্কে কাটাতেন।কিন্তু এবার ছবিটা বদলাচ্ছে।
আরও দেখুনঃ সিলেবাসে কাঁচি নতুন সরকারের! বাদ সেই ইতিহাস
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্ত সফর করে স্পষ্ট ঘোষণা করার পর কৃষকদের মধ্যে নতুন আস্থা তৈরি হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকায় জরিপকারীরা এখন উষ্ণ অভ্যর্থনা পাচ্ছেন। অনেক কৃষক স্বেচ্ছায় জমির দলিল দেখাচ্ছেন এবং ফেন্সিংয়ের জন্য জমি দিতে রাজি হয়েছেন।মুর্শিদাবাদের সীমান্ত গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন, “আগে তো কেউ আমাদের কথা শুনত না।
অনুপ্রবেশকারীরা রাতে এসে ফসল নিয়ে যেত, মেয়েদের উপর অত্যাচার করত। এখন মুখ্যমন্ত্রী নিজে এসে কথা বলায় আমরা ভরসা পেয়েছি। জমি দিতে কোনও আপত্তি নেই, যদি সীমান্ত নিরাপদ হয়।” তাঁর মতো আরও অনেক কৃষক এখন বলছেন, “নিরাপত্তার জন্য কিছু জমি দিতে আমরা প্রস্তুত। আমাদের সন্তানেরা শান্তিতে বড় হোক।”সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় এবার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।
জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষতিপূরণও সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অসন্তোষ কমতে শুরু করেছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্তে পূর্ণাঙ্গ ফেন্সিং হলে অনুপ্রবেশ অনেকাংশে কমবে। বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ, গরু পাচার ও জঙ্গি অনুপ্রবেশ রোধ করা সহজ হবে।
তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কিছু জায়গায় এখনও প্রশাসনিক জটিলতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠছে। সরকারকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের বিকল্প জীবিকা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন।