সিলেবাসে কাঁচি নতুন সরকারের! বাদ সেই ইতিহাস
কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই খোলনলচে বদলাতে শুরু করেছে বিভিন্ন সরকারি পরিকাঠামো। এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন নবগঠিত বিজেপি সরকারের কড়া নজর রাজ্যের শিক্ষা …
কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই খোলনলচে বদলাতে শুরু করেছে বিভিন্ন সরকারি পরিকাঠামো। এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন নবগঠিত বিজেপি সরকারের কড়া নজর রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর। দুর্নীতিমুক্ত পরিকাঠামো গড়ার পাশাপাশি, স্কুলের পাঠ্যক্রম বা সিলেবাসেও আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তেমনই বড়সড় ইঙ্গিত মিলেছে। (West Bengal syllabus change Singur movement removal)
রাজ্যে এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ শিক্ষামন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে আপাতত বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত শিক্ষাদফতরের সচিবের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করছেন। বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, শুধুমাত্র দুর্নীতি দমনই নয়, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত একাধিক রাজনৈতিক বিষয় এবার পাকাপাকিভাবে ছেঁটে ফেলা হতে পারে।
সিলেবাস থেকে বাদ পড়তে চলেছে কী কী?
২০১১ সালে পালাবদলের পর স্কুলস্তরের পাঠ্যবইয়ে, বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসে বেশ কিছু নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছিল। এবার সেই অংশগুলিতেই কাঁচি চলতে পারে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইতে৷ যেখানে চার পাতা জুড়ে রয়েছে সিঙ্গুর আন্দোলনের বিস্তারিত বিবরণ। রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আন্দোলনের সম্পূর্ণ টাইমলাইন। সেই সময়ের বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও ওই বইতে উল্লেখ রয়েছে।
বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এগুলো আর থাকবে না।” সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সিলেবাস বদলের জন্য বিকাশ ভবনে আবেদন জমা পড়েছে। পূর্ণাঙ্গ শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করলেই সিঙ্গুর আন্দোলন বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কাঁচি চলবে মুঘল ইতিহাসেও!
সিঙ্গুর আন্দোলনের পাশাপাশি মুঘল ইতিহাস নিয়েও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন সজল ঘোষ। তিনি বলেন, “ইতিহাসে যে লেখা আছে, আকবর ছিলেন বিরাট ধার্মিক মানুষ, শাহজাহান প্রেমের প্রতীক, এসব ওদের লোকেরাই লিখেছিল।” এগুলিও কি বদলে যাবে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে সজল ঘোষের সাফ জবাব, “বলতে হবে না, ওগুলো বদলেই যাবে।”
কী বলছেন শিক্ষাবিদরা?
পাঠ্যক্রম থেকে সিঙ্গুর আন্দোলন এবং রাজনৈতিক প্রচারমূলক অধ্যায় বাদ দেওয়ার এই ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষাবিদদের একাংশ। পঙ্কজ রায় (অধ্যক্ষ, যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজ)বলেন, “ইতিহাসের রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল। আমি কত বড় নেত্রী ছিলাম, সেটা ছাত্রদের পড়াতে শুরু করেছিলেন। আমাদের রাহুমুক্তি হয়েছে। এবার শিক্ষায় স্বঘোষিত নৈরাজ্য থেকে মুক্তি মিলবে বলেই আশা করি।”
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, “সিঙ্গুর আন্দোলন তো আসলে এগিয়ে যাওয়াকে প্রতিরোধ করেছে। বাদ যাচ্ছে, সেটা খুব ভাল কথা।” রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এই প্রস্তাবিত রদবদল আগামী দিনে ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যক্রমে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।