ফলতার সভায় ‘ভাইপো বাবুর’ সম্পত্তি লিস্ট হাতে বিস্ফোরক শুভেন্দু
ফলতা: উপনির্বাচনের আগে ফলতার রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Suvendu Adhikari)নাম না করে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ফলতার নির্বাচনী …
ফলতা: উপনির্বাচনের আগে ফলতার রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Suvendu Adhikari)নাম না করে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ফলতার নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে তিনি একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ‘ভাইপো’ শব্দ ব্যবহার করে তিনি দাবি করেন, কলকাতা পুরসভার নথি থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৪টি সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস থেকে শুরু করে কলকাতাজুড়ে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। আমতলায় প্রাসাদের মতো অফিস বানানো হয়েছে।”
আগামী ২১ মে ফলতা উপনির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই আবহেই শুভেন্দুর এই বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সভামঞ্চ থেকে তিনি শুধু সম্পত্তির প্রসঙ্গই তোলেননি, বরং ভোট পরবর্তী হিংসা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন।
আরও দেখুনঃ সীমান্ত সুরক্ষায় আশার আলো! শুভেন্দুর নির্দেশে স্বেচ্ছায় জমি দিচ্ছেন কৃষকরা
শুভেন্দু অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে বিরোধী কর্মীদের উপর ধারাবাহিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “পুলিশকে ব্যবহার করে কীভাবে গুন্ডারা তাণ্ডব চালিয়েছে, আমরা জানি। ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর হটুগঞ্জে আমার সভায় আসা মানুষদের যেভাবে মারা হয়েছিল, তা আমি ভুলিনি।” তাঁর কথায়, “পৃথিবী গোল, সময় সবসময় একরকম থাকে না।”
সভা থেকে তিনি প্রশাসনকেও কড়া বার্তা দেন। জানান, ইতিমধ্যেই পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অতীতের সমস্ত অভিযোগ গ্রহণ করতে। তিনি বলেন, “গত পাঁচ বছর বা তারও আগে যত অত্যাচারের অভিযোগ আছে, সব এফআইআর নিতে হবে। তদন্ত করতে হবে। কোনও গুন্ডাকে ছাড়া হবে না।” বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের প্রসঙ্গও। তিনি দাবি করেন, “বাংলাদেশের স্লোগান ‘জয় বাংলা’ বলে যারা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদেরও ছাড়া হবে না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিনের সভায় তিনি আরও বলেন, তৃণমূল জমানায় ভোট পরবর্তী হিংসায় যেসব বিজেপি কর্মী নিহত হয়েছেন এবং যাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে ছিল, তাঁদের পরিবারকে চাকরি দেবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি তিনি তৃণমূলের অভিযোগেরও পাল্টা জবাব দেন। তৃণমূলের দাবি, ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে বহু দলীয় কর্মী আক্রান্ত ও ঘরছাড়া হয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “কতজন ঘরছাড়া হয়েছেন, তালিকা দিন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সভায় নিজের সরকারের গত আট দিনের কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন তিনি। সিএএ প্রসঙ্গে শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, “যাঁরা শরণার্থী, তাঁরা থাকবেন। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের ‘টাটা বাই বাই’ করে দেওয়া হবে।” তাঁর এই মন্তব্যেও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আর জি কর মামলার প্রসঙ্গ টেনেও বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও অভিষেক গুপ্তর কল রেকর্ড এবং চ্যাট সামনে এলে মানুষ জানতে পারবে আগের সরকারের নেতারা কতটা নিচে নেমেছিল।”