‘আনুগত্যের পুরস্কার’, সংসদীয় দলে রদবদলের পরেই অনুযোগ কাকলির
এই সময়: ভোটের ফল প্রকাশের পরে তৃণমূলের বিভিন্ন স্তর থেকে ক্ষোভের আঁচ আসছিলই। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সংসদীয় দলে রদবদলের পরে এ বার প্রকাশ্যে অনুযোগের সুর জোড়াফুলের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের গলায়। বারাসতের সাংসদ কাকলিকে লোকসভা তৃণমূলের সচেতক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তাঁর জায়গায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা উগরে দিয়েছেন কাকলি। চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই এবং আনুগত্যের জন্য এই ‘পুরস্কার’ তিনি পেলেন বলে অনুযোগ তাঁর।
পোস্টে কাকলি লেখেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’ উল্লেখ্য, ১৯৭৬–য়ে ছাত্র রাজনীতি করার সময় থেকেই মমতার সঙ্গে তাঁর পরিচয়। ১৯৮৪–তে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে মমতার প্রথম সাংসদ হওয়ার লড়াইয়েও পাশে ছিলেন কাকলি। গত বছর সাংসদদের নিয়ে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করার সময়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান কল্যাণ।
সেই সময়ে কাকলিকে সচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ফের লোকসভায় তৃণমূলের দায়িত্বে কল্যাণ পুনর্বহাল হন। এ দিনের পোস্ট সেই কারণেই কি না, তা স্পষ্ট করেননি কাকলি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, খোদ তৃণমূলনেত্রীর উদ্দেশেই এ দিন অনুযোগ–বার্তা দিলেন কাকলি। এবং এতে জোড়াফুলের অস্বস্তি আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন তাঁরা।