সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালকে ‘বেআইনি’ বলল মোদী সরকার
সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের জলবিবাদে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। (Indus Waters Treaty)১৬ মে ২০২৬-এ ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, হেগের স্থায়ী …
সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের জলবিবাদে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। (Indus Waters Treaty)১৬ মে ২০২৬-এ ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, হেগের স্থায়ী মধ্যস্থতা আদালত বা পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আরবিট্রেশন (PCA) কর্তৃক গঠিত ট্রাইব্যুনালকে ভারত কোনওভাবেই বৈধ বলে মানে না। শুধু তাই নয়, ওই ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায়কে “বাতিল ও শূন্য” বলেও ঘোষণা করেছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের এই কড়া অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৫ মে, যখন মধ্যস্থতা আদালত সিন্ধু জল চুক্তির আওতায় জল ধারণ ক্ষমতা বা ‘ম্যাক্সিমাম পন্ডেজ’ সংক্রান্ত একটি সম্পূরক রায় প্রকাশ করে। পাকিস্তানের আবেদনের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে ভারত শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এসেছে। পরদিন অর্থাৎ ১৬ মে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ভারত এই তথাকথিত রায়কে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। আগের সমস্ত রায় যেমন মানা হয়নি, এটিও মানা হবে না।”
আরও দেখুনঃ ‘পুষ্পার দায়িত্ব আমার!’ পুনর্নির্বাচনের আগে জাহাঙ্গীরকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
ভারতের যুক্তি, এই বিশেষ মধ্যস্থতা আদালত গঠনের প্রক্রিয়াই সিন্ধু জল চুক্তির মূল কাঠামোর পরিপন্থী। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জলবিবাদ মেটানোর জন্য ‘নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ’ নিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান সেই পথ এড়িয়ে সমান্তরালভাবে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা আদালতের দ্বারস্থ হয়। ভারতের দাবি, এতে চুক্তির নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে।
নয়াদিল্লির বক্তব্য আরও কঠোর হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গিরা ওই হামলার সঙ্গে জড়িত। সেই ঘটনার পরই ভারত সিন্ধু জল চুক্তিকে সাময়িকভাবে ‘ইন অ্যাবেয়েন্স’ বা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তান যতদিন আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি বন্ধ না করছে, ততদিন এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই অবস্থান শুধু জলবণ্টন ইস্যু নয়, বরং বৃহত্তর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতির অংশ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে পাকিস্তান একদিকে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভিন্ন চুক্তিকে ব্যবহার করে কূটনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।
ভারত আরও স্পষ্ট করেছে যে, যেহেতু দেশটি সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে চুক্তিকে স্থগিত রেখেছে, তাই ওই চুক্তির অধীনে গঠিত কোনও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের ভারতের জল ব্যবহারের অধিকারের ওপর রায় দেওয়ার এক্তিয়ার নেই। অর্থাৎ, ভারতের মতে এই ট্রাইব্যুনাল শুধু বেআইনি নয়, কার্যত অকার্যকরও।