BSF–এর জমি হস্তান্তর নিয়ে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক, তদারকির দায়িত্বে প্রাক্তন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী
এই সময়: প্রয়োজনীয় জমি না–মেলায় পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রায় ৫৬৩ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার দেওয়ার কাজ বাকি রয়েছে। এই কাজ শেষ করতে প্রায় ৬০০ একর জমি প্রয়োজন। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হবে। এই কাজ সুষ্ঠু ভাবে সারতে রাজ্যের ভূমিরাজস্ব দপ্তরের সচিব বন্দনা যাদব ও এতে তদারকির দায়িত্ব রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, সোমবারই ভূমিরাজস্ব সচিব নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি সীমান্তবর্তী জেলাগুলির ডিএম এবং বিএলএলআরও–দের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিতকরণ ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। এর জন্য জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ রাজ্য সরকারের গাইডলাইন মেনে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে।
সূত্রের খবর, কাঁটাতারের বেড়া দিতে শুধু কোচবিহারের সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১৭৮ একর জমি প্রয়োজন। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে এখনই ১০৫ একরের বেশি জমি বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। যার মধ্যে নদী তীরবর্তী ও জলাভূমি এলাকা রয়েছে। এর পরিমাণ আরও কতটা বাড়ানো যায়, তা দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে মোট ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে ১,৬৫৩ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। অসম ও ত্রিপুরা সরকার এই ব্যাপারে সহযোগিতা করলেও পশ্চিমবঙ্গ অসহযোগিতা করছিল বলে বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে বারবার অভিযোগ করেছেন নরেন্দ্র মোদী–অমিত শাহরা।
অন্য দিকে, মুখ্যসচিবের দপ্তরে প্রশাসনিক সমন্বয়ের জন্য এ দিনই পাঁচজন আইএএস আধিকারিককে বিশেষ দায়িত্বে নিয়োগ করা হলো। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং কৌশলগত কাজের জন্য এই নিয়োগ।