7th Pay Commission Bengal: সপ্তম পে কমিশন চালু হলে ঠিক কতটা বেতন বাড়বে সরকারি কর্মীদের? অঙ্কটা বুঝিয়ে দিলেন বিশেষজ্ঞরা | 7th Pay Commission in Bengal? Suvendu Adhikari Govt Likely to Discuss DA Hike Soon
শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্য়মন্ত্রীImage Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই সপ্তম পে কমিশন চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। নতুন সরকার গঠনের পর পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়ে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছিলেন, পরের ক্যাবিনেট বৈঠকেই সপ্তম পে কমিশন নিয়ে আলোচনা হবে। আশায় বুক বাঁধছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে না পাওয়া ডিএ-এর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। দিনের পর দিন তাঁরা রাস্তায় থেকেছেন। এবার সরকারের প্রতিশ্রুতির পর কী বলছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ!
কী বলছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ?
সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হলে, সরকারি কর্মীরা ঠিক কতটা লাভবান হবেন? কতটা বেতন বাড়বে তাঁদের? TV9 বাংলা যোগাযোগ করেছিল ভাস্কর ঘোষের সঙ্গে। তিনি বলেন, “সরকার যদি অ্যাক্ট প্রকাশ করে, তাহলে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হবে না, সরকার কোন উপায়ে এই সপ্তম পে কমিশন অ্যাপ্লাই করতে চাইছে। এইভাবে ইউনিফায়েড উপায়ে বলা সম্ভব নয়, কোন বেতন বেড়ে কতটা হবে। কারণ অনেক সময়ে দেখা যায়, ক্যাডার বেসিসে বেতনটা বদলে যায়। রাজ্য সরকারের কোনও কর্মী এমন রয়েছেন, যাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের থেকে বেশি বেতন পান।”
তবে তিনি একটা উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, “প্রাথমিকভাবে বলা যেতে পারে, আমাদের এখানে কোনও শিক্ষক ৩৫ হাজার টাকা বেসিক পান, বাইরের রাজ্যে, অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ডে, ওড়িশার ক্ষেত্রে বেসিক ৪৪ হাজার টাকা। ৯ হাজার টাকার ফারাক, প্রাথমিকের শিক্ষকের ক্ষেত্রেও প্রায় ৮ হাজার টাকার ফারাক রয়েছে। তার সঙ্গে সঙ্গে DA দেশে যে আইন মেনে দেওয়া হয়, আমাদের এখানে দেওয়া হত না। সপ্তম পে কমিশন যদি সঠিক ভাবে অ্যাপ্লাই হয়, তার সঙ্গে যদি DA যুক্ত হয়, তাহলে ধরে নেওয়া যায়, কারোর বেসিক যদি ৩০ হাজার টাকা হয়, তাহলে অন্ততপক্ষে ১০-১২ হাজার টাকা বেশি বেতন পাবেন।”
সপ্তম পে কমিশন কবে লাগু হয়?
সপ্তম পে কমিশন হল ভারত সরকার কর্তৃক গঠিত একটি সুপারিশ কমিটি, যা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা এবং পেনশনের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে। ২০১৬ সাল থেকে এটি কেন্দ্রীয় স্তরে কার্যকর হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ষষ্ঠ পে কমিশনের ভিত্তিতে বেতন পান।
কতটা বাড়তে পারে বেতন?
সপ্তম পে কমিশনের মূল আকর্ষণ হল পে-ম্যাট্রিক্স। এর মাধ্যমে কর্মচারীদের মূল বেতন (Basic Pay) একধাক্কায় অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রের বেতনের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা ঘুচে যাবে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মচারীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় হার অনুযায়ী ডিএ-র একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। সপ্তম পে কমিশন চালু হলে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী নিয়মিত এবং বকেয়া ডিএ পাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে। বাড়ি ভাড়া ভাতা, যাতায়াত ভাতা এবং চিকিৎসা ভাতার পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে।গ্র্যাচুইটি এবং পেনশনের পরিমাণও এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বাড়বে, যা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা দেবে।
উদাহরণ
ধরুন, সপ্তম পে কমিশনের মূল ভিত্তি হল ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। অর্থাৎ, আগের পে-কমিশনের তুলনায় মূল বেতন গড়ে ২.৫৭ গুণ বৃদ্ধি পায়।
একজন রাজ্য সরকারি কর্মচারীর যদি বেসিক ২০ হাজার টাকা হয়, তাহলে ২.২৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হিসাবে বেসিক হবে ৫১ হাজার ৪০০ টাকা। আর ষষ্ঠ পে কমিশনে রাজ্যের হারে তিনি যদি ডিএ পান ১৪ শতাংশ, তাহলে এই সপ্তম পে কমিশন লাগু হলে কেন্দ্রীয় হারে বর্তমানে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি হবে।
কী বলছেন অবসরপ্রাপ্তরা?
কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা বলছেন অন্য কথা। তাঁদের বক্তব্য, বাম ফ্রন্ট আমলে পঞ্চম পে কমিশনে অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছিলেন, বছরে দু’বার ডিএ পাবেন সরকারি কর্মচারীরা। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী অশোক প্রামাণিক বলেন, “ষষ্ঠ পে কমিশনে মহার্ঘ ভাতার কথা উল্লেখই করা হয়নি। এই নিয়ে আমরা আদালতেও লড়াই করেছি। এমনকি আমাদের না জানিয়েই অজ্ঞাত রোপা রুল বেরিয়ে গেল। DA-এও তাতে সংযুক্ত ছিল না। আমাদের রাজ্যে বিভিন্ন ক্যাডারের বিভিন্ন বেতনের সরকারি কর্মী রয়েছেন। তাঁদের বেতন কতটা বাড়ছে, সেটাও স্পষ্টভাবে উল্লেখিত নেই।” তাঁর দাবি, “আমরা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা চাই, ষষ্ঠ পে কমিশনে, আমাদের না পাওয়াগুলো, অর্থাৎ আমাদের বঞ্চনাগুলো, এরিয়ার টাকা মিটিয়েই সপ্তম পে কমিশন চালু করা হোক।” তবে সপ্তম পে কমিশন চালু হলে, DA যুক্ত হলে নিঃসন্দেহেই সরকারি কর্মীদের বেতন অনেকটাই বেড়ে যাবে।