ডার্বিতেই আইএসএল ট্রফির ভাগ্য নির্ধারণ! উত্তাপে ফুটছে ময়দান!
ইস্টবেঙ্গলের ফর্ম, মোহনবাগানের চাপ আর ট্রফির অঙ্কে রবিবারের ডার্বি ঘিরে উত্তেজনা চরমে। ৯০ মিনিটেই বদলাতে পারে সব হিসেব।
ইডেনের উল্টোদিকের সেই পরিচিত রাস্তা আজও ময়দানের আবেগ বাঁচিয়ে রেখেছে। বিকেলের পর থেকেই সেখানে জমে ওঠে আড্ডা। চায়ের কাপ, ঘুগনি, ডিমের ডেভিল আর ফুটবল, এই চারেই যেন তৈরি হয় কলকাতার ময়দানি সংস্কৃতি। তবে বৃহস্পতিবার সেই আড্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটাই প্রশ্ন— রবিবারের ডার্বিতে কে জিতবে?
ময়দানের প্রবীণ থেকে তরুণ সমর্থক, সকলের মুখেই একটাই আলোচনা। কারও মতে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে, কেউ আবার মোহনবাগানের অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রাখছেন। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম বিচার করলে লাল-হলুদ শিবিরের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেশি। দীর্ঘদিন পর আইএসএলের শীর্ষে থেকে ডার্বিতে নামছে ইস্টবেঙ্গল। আর সেই কারণেই সমর্থকদের উত্তেজনাও তুঙ্গে। এ দিকে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুর ভিতরেও চলছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। ক্লাব কর্তারা নাকি ঠিক করেছেন, আগামী মরশুমেও কোচ অস্কার ব্রুজ়োকে ধরে রাখতেই হবে। সেই বিষয়ে ইনভেস্টর ইমামির কাছেও বার্তা পাঠানো হয়েছে। কারণ, চলতি মরশুমে দলকে নতুন ছন্দে ফিরিয়ে আনার পিছনে অস্কারের ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এখন স্পষ্ট।
অন্য দিকে মোহনবাগান শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। শেষ কয়েকটি ম্যাচে দলের পারফরম্যান্স আশানুরূপ হয়নি। বিশেষ করে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে খেলা সমর্থকদের হতাশ করেছে। আক্রমণে ধার কমেছে, মাঝমাঠেও দেখা যাচ্ছে ছন্দপতন। ফলে ডার্বির আগে চাপ অনেকটাই সবুজ-মেরুনের উপর। এই মরশুমের ডার্বির গুরুত্ব অন্য মাত্রার। কারণ, এই প্রথম আইএসএল চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে কলকাতার এই মহারণ। অঙ্ক বলছে, ইস্টবেঙ্গল জিতলে তারা অনেকটাই এগিয়ে যাবে ট্রফির দৌড়ে। অন্য দিকে মোহনবাগান জিতলে তারাও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাস্তা সহজ করে ফেলবে। আর ম্যাচ ড্র হলে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।
তবে ডার্বির সৌন্দর্যই হল, এখানে কোনও হিসেব সব সময় মেলে না। ফর্ম, পরিসংখ্যান বা অতীত— সব কিছুই ৯০ মিনিটে বদলে যেতে পারে। তবু বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে ইস্টবেঙ্গলকে খানিকটা এগিয়ে রাখছেন অনেকেই। কারণ দল এখন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর, আর ফুটবলারদের মধ্যেও লড়াইয়ের মানসিকতা স্পষ্ট। বাংলার ফুটবল সংস্কৃতিতে ডার্বি শুধু একটি ম্যাচ নয়, আবেগের বিস্ফোরণ। শহরের রাস্তাঘাট থেকে চায়ের দোকান— সর্বত্র এখন একটাই অপেক্ষা। রবিবার রাতে আইএসএলের ট্রফি কি মশালের শহরে আসবে, নাকি পালতোলা নৌকো আবারও জয় ছিনিয়ে নেবে— সেই উত্তর জানার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।