ইউরিন ইনফেকশনকে অবহেলা নয়! অজান্তেই বিকল হতে পারে কিডনি, জেনে নিন বাঁচার উপায় | Urine infection warning signs treatment prevention - 24 Ghanta Bangla News
Home

ইউরিন ইনফেকশনকে অবহেলা নয়! অজান্তেই বিকল হতে পারে কিডনি, জেনে নিন বাঁচার উপায় | Urine infection warning signs treatment prevention

Spread the love

ইউরিন ইনফেকশন বা মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা। সাধারণত কয়েক দিনের সঠিক চিকিৎসায় এটি সেরেও যায়। কিন্তু সাধারণ বলেই এই সমস্যাটিকে হালকাভাবে নেওয়া একেবারেই উচিত নয়। কারণ, শুরুর দিকে একে সাধারণ প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া বা ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া মনে হলেও, সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি এর জেরে কিডনি চিরতরে বিকল হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, ইউরিন ইনফেকশন কেন হয় এবং এটি কখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

ইনফেকশন কেন হয়?
এই সংক্রমণ মূলত ‘ই. কোলাই’ (E. coli) নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। এই ব্যাকটেরিয়া কোনওভাবে মূত্রনালীতে প্রবেশ করলে সেখানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব, পর্যাপ্ত জল না খাওয়া এবং নোংরা বা পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের কারণে ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এ ছাড়া, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলেও অনেক সময় এই সংক্রমণ হতে পারে। এটি মূত্রথলি (Bladder), মূত্রনালী (Urethra) এবং শেষ পর্যন্ত কিডনিকে আক্রান্ত করে।

কখন এটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?
ইউরিন ইনফেকশন যতক্ষণ পর্যন্ত মূত্রথলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, ততক্ষণ এটি বড় কোনও বিপদ ঘটায় না। কিন্তু এই ইনফেকশন যদি মূত্রনালী বেয়ে কিডনি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবেই তা মারাত্মক হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন এই সংক্রমণ শরীরে পুষে রাখলে কিডনি ড্যামেজ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিডনিতে ইনফেকশন ছড়ালে শরীরে কিছু বিশেষ উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন— প্রচণ্ড জ্বর, কাঁপুনি দিয়ে ঠান্ডা লাগা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসা। শরীরে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে অবিলম্বে হাসপাতালে যাওয়া উচিত।

ইউরিন ইনফেকশনের সাধারণ লক্ষণ:

প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি।

বারবার প্রস্রাবের বেগ পাওয়া।

প্রস্রাবের বেগ হলেও সামান্য পরিমাণে প্রস্রাব হওয়া।

প্রস্রাব থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়া।

তলপেটে বা কোমরের নিচের অংশে অবিরাম ব্যথা।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
এই সমস্যায় যে কেউ আক্রান্ত হতে পারলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেকটাই বেশি থাকে। বিশেষ করে—

প্রবীণ বা বয়স্ক ব্যক্তিদের।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের।

গর্ভবতী মহিলাদের।

যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি দুর্বল।

সুরক্ষিত থাকার উপায় কী?

পর্যাপ্ত জল পান: শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া উচিত। এতে মূত্রনালীতে থাকা ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে ধুয়ে বেরিয়ে যায়।

প্রস্রাব চেপে না রাখা: দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। প্রস্রাব আটকে রাখলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করার সুযোগ পায়।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার করুন এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিন।

ভুল ওষুধ না খাওয়া: সামান্য সমস্যাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *