তিব্বত সীমান্তের কাছে ভারতের প্রথম গ্রাম ঘুরে দেখবেন?
উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায়, ভারত-তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম মানা। এমন এক জায়গা, যেখানে প্রকৃতি, পুরাণ ও সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের জীবনের ইতিহাস একসঙ্গে মিশে গিয়েছে। বহু বছর ধরে এটি ‘ভারতের শেষ গ্রাম’ নামে পরিচিত ছিল, কারণ সীমান্তের এত কাছে আর কোনও বসতি নেই। তবে এখন সেই পরিচয়ে বদল এসেছে। বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের নতুন সাইনবোর্ডে মানাকে বলা হচ্ছে ‘ভারতের প্রথম গ্রাম’। এই পরিবর্তন শুধু নামের নয়, দৃষ্টিভঙ্গিরও। দেশের শেষ প্রান্ত নয়, বরং ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবেই এখন মানাকে দেখা হচ্ছে।
কী ভাবে যাবেন?
বদ্রীনাথ থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে এবং প্রায় ৩২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মানা গ্রাম আকারে ছোট হলেও তার চরিত্র অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সরস্বতী নদীর ধারে অবস্থিত এই গ্রামে রয়েছে পাথরের ঘর, সরু পথ, বরফে ঢাকা হিমালয়ের মনোরম দৃশ্য এবং এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ। অনেক পর্যটক বদ্রীনাথ দর্শনের সঙ্গে মানাও ঘুরে দেখেন। কারণ এর সঙ্গে যোগ রয়েছে পুরাণেরও। এই গ্রাম নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যও বিশেষ আকর্ষণীয়।
পুরাণ যোগ কী ভাবে?
মানার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাভারতের গভীর সম্পর্ক। এখানে রয়েছে বিখ্যাত ব্যাস গুহা। কথিত, এখানে বসেই ঋষি বেদব্যাস মহাভারত রচনা করেছিলেন। কাছেই রয়েছে গণেশ গুহা, সেখানে নাকি সিদ্ধিদাতা গণেশ বেদব্যাসের বর্ণিত কাহিনি লিপিবদ্ধ করেছিলেন বলেই বিশ্বাস করা হয়। এই গুহাগুলো শুধুমাত্র দর্শনীয় স্থান নয়, ভারতীয় পুরাণ ও বিশ্বাসের জীবন্ত প্রতীকও বটে।