ফ্রি বাসযাত্রা স্বাগত, তবে পথে বাড়ুক যান, চান ওঁরা
এই সময়: বাংলার বিজেপি সরকারের প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে সরকারি বাসে মহিলাদের নিখরচায় যাতায়াতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে কলকাতা ও আশপাশের মানুষ। সেই সঙ্গে নিত্যযাত্রীদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগের সরকার পরিবহণ ব্যবস্থাকে কার্যত লাটে তুলে দিয়েছিল, সরকারি বাসের সংখ্যা ক্রমশ কমলেও কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই, তাঁদের আশা, নতুন সরকার ভেঙে পড়া সেই গণ পরিবহণ ব্যবস্থাকে নতুন ভাবে গড়ে তুলবে।
পরিবহণ দপ্তর সূত্রের খবর, কলকাতার রাজপথে সরকারি বাসের সংখ্যা তৃণমূলের আমলে কমেছে অনেকটাই। এমনকী, বাস থাকলেও চালক, কনডাক্টর নিয়োগ না–হওয়ায় ডিপো–তে বসিয়ে রাখতে হয়েছে অসংখ্য বাস। বর্তমানে শহর কলকাতায় সাকুল্যে ৬৭০টি সরকারি বাস নিয়মিত রাস্তায় চলে। অতিমারী–পরবর্তী সময়ে বেসরকারি বাসের সংখ্যাও ৬ হাজার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৭০০–র আশপাশে। বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনগুলো বহু বার গণ পরিবহণকে ঢেলে সাজার দাবি তুললেও আগের সরকার তাতে গুরুত্ব দেয়নি, এমনটাই অভিযোগ।
সরকারি সূত্রে খবর, ১ জুন থেকে বিনামূল্যে বাসে সওয়ারি হতে পারবেন মহিলারা। তবে রাজ্যের সর্বত্রই এই সুবিধে মিলবে, নাকি কেবল শহরে, সেটা এখনও স্পষ্ট হয়নি। খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হবে বলে সূত্রের খবর। একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী, শ্যামবাজারের ইন্দিরা সরকার বলছেন, ‘সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে সরকারি বাসের সংখ্যা আগের সরকারের আমলে প্রতি বছরই কমেছে। বাসের সংখ্যা না–বাড়ালে আমাদের মতো কর্মরত মহিলাদের পক্ষে এই সুবিধের সুফল পাওয়া কঠিন। আশা করি, নতুন সরকার সেটা করবে।’
একই সুর সল্টলেক–সেক্টর ফাইভের একটি ম্যানেজমেন্ট কলেজের পড়ুয়া দীয়া চট্টোপাধ্যায়ের গলাতেও— ‘বিনামূল্যে যাতায়াত মানে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রীদের কাছে অনেকটা হাতখরচ বাঁচা। কিন্তু সন্ধের পরে সল্টলেক-যাদবপুর রুটে সরকারি বাস যেন ভ্যানিশ হয়ে যায়। আশা রাখি, নতুন সরকার পরিবহণের পরিকাঠামো ঠিকঠাক করার উপর গুরুত্ব দেবে।’
নিত্যযাত্রীদের একাংশের দাবি, সরকারি বাসে মহিলাদের যাতায়াত বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও সরকারি পরিবহণ নিগমকে চাঙা করা এবং বাসের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নতুন সরকার গুরুত্ব দিলে বহু মানুষের উপহার হবে। পরিবহণ দপ্তরের কর্তারা আশাবাদী, নতুন সরকার পরিকাঠামো বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেবে।